বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোতে অধিকাংশই অছাত্র, চাকরিজীবী, বিবাহিত ও বিতর্কিতরা পদে বহাল। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আসছে না। সংগঠনের সাধারণ নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন। এদিকে নতুন বছরে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে পারে, এমন আভাস পাওয়ায় নতুন কমিটিতে সুযোগ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকে। বর্তমান কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব তাঁরা।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক এবং আগামী কমিটির শীর্ষ একটি পদের প্রত্যাশী শেখ মো. রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বয়সসীমা আছে। জেলা কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা না যায়, তখন আমাদের বয়সসীমা নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের মাঠের শ্রম বিফলে যায়। আমরা যাঁরা পদপ্রত্যাশী, অবশ্যই দ্রুত সম্মেলন চাই।’

বর্তমান কমিটির একজন সহসভাপতি বলেন, ‘আমার বিয়ে হয়েছে দুই বছর আগে। কমিটির অনেক নেতার সন্তান বড় হয়ে গেছে। এখন আমাদের রানিং ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিতে খারাপ লাগে। সময়ক্ষেপণ না করে নতুন কমিটি দেওয়া উচিত।’

জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৭ সালে। এর আগের ১৫ বছর সম্মেলন হয়নি। ওই সম্মেলনে কাউন্সিলর ও তৃণমূলের মতামত ছাড়াই পারভেজ হাওলাদারকে সভাপতি ও ইমরান হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ১০১ সদস্যের কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও, সম্মেলনের প্রায় ৬ মাস পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা ছাত্রলীগের ২৩০ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই কমিটির বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার অধিকারী বলেন, ‘জনশ্রুতি আছে, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটি গঠনের আগেই বিবাহিত ছিলেন। ফলে নীতিগতভাবে তাঁরা কমিটিতে থাকতে পারেন না। আমরা চাই, অছাত্র, বিতর্কিতরা কমিটিতে না থাকুক; নতুন নেতৃত্ব আসুক। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অনেকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কিছু তো হচ্ছে না।’

উপজেলা পর্যায়ে দাকোপের ১২ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষিত হয় ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর। সেই উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও, কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ২০১৯ সালের ২ জুন কয়রা উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটি কাজ শুরুর ২২ দিনের মাথায় তা বাতিল হয়। পরে শরিফুল ইসলামকে সভাপতি ও হাদিউজ্জামান রাসেলকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। পরে মারধরে গুরুতর জখম হয়ে সাধারণ সম্পাদক রাসেল মারা যান। এরপর নতুন কমিটি গঠন বা আগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তেরখাদায় ২০১৯ সালে আংশিক আহ্বায়ক কমিটি হয়। এসব কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এদিকে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা উপজেলা ও পাইকগাছা পৌরসভার আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে পাইকগাছা উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পর দুটি পক্ষ বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। আর ১২টি কলেজ কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলা কমিটি করতে গেলে স্থানীয় নেতাদের বিভিন্ন মত-পথ থাকে। যাঁর মনমতো কমিটি হয় না, তিনিই অখুশি হন। এসব নিয়েই আমাদের পথ চলতে হচ্ছে।’

পারভেজ হাওলাদার আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরে আমরা বাকি উপজেলা কমিটি গঠন এবং আংশিক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করব। সম্মেলনের জন্য আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত। আগামী এপ্রিলের মধ্যে জেলা কমিটির সম্মেলন দিতে পারব বলে আশা করছি। জেলা আওয়ামী লীগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যদি এর আগে সম্মেলন করার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তখন তা করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন