বিজ্ঞাপন

মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ না থাকায় লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় ৫০ হাজার জেলের ঈদ কেটেছে এবার চোখের জলে। ফলে মহাজনের দাদন ও এনজিওর কিস্তি নিয়ে জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য ওই এলাকায় সব ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসন ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনায় সব ধরনের জাল ফেলা বন্ধ ছিল।

লক্ষ্মীপুর জেলায় ৫০ হাজার ২৫২ জন জেলে আছেন। এর মধ্যে নদীতে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত ৪৯ হাজার জেলে। তাঁদের একমাত্র পেশা মাছ ধরা। আজ শনিবার দুপুরে জেলেপল্লি নাইয়াপাড়া ঘুরে জানা যায়, নদীতে মাছ না থাকায় জেলেপল্লিতে এবার ঈদের আমেজ ছিল না। ঘরে ঘরে ছিল কষ্ট আর হতাশা। প্রতি ঈদে জেলেরা ছেলেমেয়েদের নতুন জামা দেন। কিন্তু এবার জামা-কাপড় তো দূরের কথা, অনেকেই কিনতে পারেননি সেমাই-চিনিও।

জেলে আলাউদ্দিন বলেন, নদীতে মাছ না থাকলে তাঁরা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে সংসার চালান। ইলিশ ধরে দাদনের টাকা পরিশোধ করে দেন। কিন্তু এবার করোনা মহামারির কারণে নতুন করে কেউ আর টাকা দিচ্ছেন না। একদিকে দাদনে টাকা পাচ্ছেন না, অন্যদিকে নদীতে মাছ নেই। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা বেকায়দায় পড়েছেন।

রায়পুর খাসেরহাট মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তফা ব্যাপারী বলেন, জেলেদের কোনো জমিজমা নেই। তাঁদের আয়ের উৎস হলো মাছ। নদীতে মাছ না ফেলে তাঁদের কষ্টে শেষ থাকে না। বিশেষ করে ইলিশ মাছ। এবার ঈদের আগে নদীতে একেবারেই মাছ ধরা পড়েনি। এতে জেলেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিগত দিনে এ সময়ে ঈদে জেলেদের পকেট থাকত জমজমাট। ছিল উৎসবের আমেজ। কিন্তু এবার তাঁরা ঈদে সেমাই-চিনিও ঠিকমতো কিনতে পারেননি।

দুই যুগ ধরে নদীতে মাছ ধরছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী গ্রামের জেলে বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। তাঁর সহযোগী আরও ১৪ জন জেলে ছিলেন। রাতভর মেঘনার মজুচৌধুরী এলাকায় দুবার জাল ফেলেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর আজ শনিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ছোট ছোট ইলিশ মেলে চারটি। এতে মন ভালো নেই তাঁদের। জেলেদের খরচ বাদে ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানিসহ পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু চারটি ইলিশ বিক্রি হয় এক হাজার টাকায়। এতে খরচের চার হাজার টাকাই ওঠেনি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষণাকেন্দ্র চাঁদপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, চরিত্রগতভাবে ইলিশ দল বেঁধে চলে। নদীতে যত্রতত্র ডুবোচর, নদীর পানিদূষণ ও কারেন্ট জালের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ স্থান ত্যাগ করে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কোনো মোহনায় চলে যায়। এ কারণে মেঘনার এ অঞ্চলে আগের মতো ইলিশের দেখা মিলছে না। তবে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় ঈদে জেলেদের কোনো সহযোগিতা করা যায়নি। নদীতে মাছ কম থাকায় জেলেপল্লিতে কিছু হাহাকার আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন