বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আরহানের মা জানান, তাঁদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও এখন চট্টগ্রামে থাকেন। এক মাস ধরে তাঁর স্বামী কারাগারে। গাড়ি কেনার মামলায় তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে। এর বেশি আর বিস্তারিত জানালেন না তিনি।

কিছুটা দূরে মায়ের কোলে আরও এক ছোট শিশুকে দেখতে পেলাম। তবে আরহানের মতো সে কাউকে ডাকছে না। হতবিহ্বল চেহারা নিয়ে শুধু ওপরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মা আঙুল তুলে বলছেন, ‘ওই যে হলুদ গেঞ্জি পরা, ওই তোমার বাবা।’

কারাবন্দীদের এভাবে একনজর দেখতে কিংবা এভাবে ইশারায় কথা বলার জন্য নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন জেল রোডে। কেউ কেউ একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন কারাগারের ভবনের জানাগুলোর দিকে। কেউ হাত নেড়ে ইশারায় বলার চেষ্টা করছেন, ‘চিন্তা করো না, আমরা ভালো আছি’।

আর জানালার লোহার শিকের ওপারে দাঁড়িয়ে আছেন বন্দীরা। তাঁরাও ইশারায় জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেখানে তখন নানান জনের নানান রকম কথাবার্তা। স্বজনদের আহাজারি আর মিনতিতে জেল রোডের সেদিনের বাতাস ভারী হয়ে ছিল। তবে এ দৃশ্য শুধু এক দিনের নয়, প্রায় প্রতিদিনের।

আনোয়ারা থেকে আসা সিরাজ মিয়া বলেন, করোনার কারণে এখন কারাবন্দী স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা যায় না। সে কারণেই এই রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে স্বজনকে দেখার চেষ্টা করছে সবাই। সবার ভাগ্যে একনজর দেখার সুযোগও জোটে না। যাঁরা জানালার কাছে থাকেন, তাঁরাই শুধু দেখতে পান।

default-image

জেল রোডের এক দোকানদার জানান, এখানে প্রতিদিনই কারাবন্দীদের স্বজনদের ভিড় থাকে। ছুটির দিনগুলোয় এই ভিড় বেড়ে যায়। আর বেশির ভাগ সময়ই নারীদের উপস্থিতি বেশি থাকে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম কারাগারেও বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে। তবে প্রত্যেক বন্দী সপ্তাহের ১ দিন ১০ মিনিট করে টেলিফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। অবস্থানগত কারণে কারাগারের চারপাশে রাস্তা ও বাড়িঘর রয়েছে। তবে উঁচু ভবন থেকে ইশারায় কোনো বন্দী কথা বললেও কারা কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সতর্ক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন