বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অভয়নগর এলজিইডি সূত্র জানায়, দক্ষিণ দেয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পূর্বাচল খেয়াঘাট সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। এর মধ্যে পূর্বাচল খেয়াঘাট থেকে পুড়াখালী বাওড় মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কটি তিন বছর আগে নির্মাণ করা হয়। সড়কটির দক্ষিণ দেয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পুড়াখালী বাওড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার এক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে।

ভৈরব নদের ‍ওপর নির্মিত সেতুর পূর্ব পাশের একটি সড়ক দক্ষিণ দেয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তরে চলে গেছে। কিছু দূর গিয়ে পুড়াখালী বাওড় মোড়ে সড়কটি থেকে একটি অংশ বেরিয়ে ভৈরব নদের পূর্বাচল খেয়াঘাট পর্যন্ত চলে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির কয়েকটি স্থানে ডান পাশে তিন ফুট করে খুঁড়ে তার মধ্যে ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি জায়গায় সড়কের বাঁ পাশ খোঁড়া হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, সড়কের দুই পাশের বেশির ভাগ স্থানে সরকারি কোনো জায়গা নেই। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, গাছপালা, বাড়ি, খেত ও কবরস্থান রয়েছে। মারুফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী সম্প্রতি ভৈরব নদের তীরে সেতুর পাশে কয়েক বিঘা জমি কিনেছেন। ওই জমিতে তিনি ভৈরব নদের খননের বালু তুলছেন। সড়কটি দিয়ে তিনি বেশি ধারণক্ষমতার ট্রাকে (১০ চাকার ট্রাক) করে ওই বালু পরিবহন করছেন। এরই মধ্যে সড়কটির বেশির ভাগ জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থান দেবেও গেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে মারুফ হোসেন সড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানের দুই পাশে খুঁড়ে খোয়া ও বালু দিয়ে ভরাট করেছেন।

দেয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মারুফ হোসেন বড় ট্রাকে করে বালু পরিবহনের জন্য সড়কটির দুই পাশে তিন ফুট করে বাড়াচ্ছেন। সড়কের পাশের বেশির ভাগ স্থানে এলাকার মানুষের জায়গা। একজন ব্যবসায়ী কীভাবে সড়ক বাড়াচ্ছেন, বুঝতে পারছি না। বাধা দিতে গেলে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

রোজিবুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের সঙ্গেই আমার বসতঘর। পাশে সড়কের কোনো জায়গা নেই। ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন আমাকে জায়গা খালি করে দিতে বলে গেছেন। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’

নূর আলী শেখ বলেন, ‘সড়কের সঙ্গেই আমাদের পারিবারিক কবরস্থান। ওই ব্যবসায়ী এলজিইডির কাছ থেকে সড়ক বড় করার অনুমতি নিয়ে এসেছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। তিনি আমাকে কয়েকটি কবর সরিয়ে নিতে বলে গেছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন গত ১২ অক্টোবর সড়কটি দিয়ে গাড়ি ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী ওই দিন তাঁকে সহযোগিতা

করার জন্য অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য গতকাল বুধবার ব্যবসায়ী মারুফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ করতে গত সোমবার ব্যবসায়ী মারুফ হোসেনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আনিসুজ্জামান বলেন, এলজিইডি জনগণের জন্য সড়ক নির্মাণ করে। সড়ক সম্প্রসারণে যদি জনগণের ক্ষতি হয় এবং জনগণ যদি না চায়, তবে তা করতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন