বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদ-নদীর পানি বাড়লেও তাঁরা ঘরেই ছিলেন। কিন্তু আজ বুধবার সকালের জোয়ারে পানি আরও বাড়লে ঘরের মাটি ধসে পড়ে। এরপর সকালে স্বামী আইয়ুব মোল্লা, মেয়ে খাদিজা (১১), জান্নাতুল (৮) ও শিশুপুত্র খালিককে (২) নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধের ওপর।

ঝুমুর বেগম বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে জোয়ারে তাঁর ঘরের ভিটা পর্যন্ত পানি উঠেছিল। সন্ধ্যার জোয়ারের পানি ঘরের মধ্যে ঢোকে। রাতে ঘরেই ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সকালে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে আগুনমুখা নদীর ঢেউয়ের আঘাতে ঘরের ভিটে ধসে যেতে শুরু করে। এরপরই ঘর ছাড়ে ঝুমুরের পরিবার।

ঝুমুর বেগম বলেন, স্বামীর বাড়িতে আসার পর পাঁচবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তাঁরা। যেটুকু জমি ছিল, তাও বিলীন হয়েছে। এক টুকরো জমির ওপর ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নিয়ে তাঁদের দিন কাটছিল। কিন্তু জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে সেই আশ্রয়ও বিলীন হতে চলেছে।

হাওলা গ্রামের রাজিয়া বেগম (২৫) জানান, তাঁদের ঘরসহ ঘরের অনেক মালামাল জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। তিনি এখন স্বামী নুর জামাল, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।

একই গ্রামের আল-আমিন জানান, জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে এখন তাঁদের ঘরে থাকার কোনো উপায় নেই। আশ্রয় ন্দ্রেও অনেক দূরে।

আগুনমুখায় জোয়ারের পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, গলাচিপার সদর ইউনিয়নের চরকারফারমার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

default-image

সকালের জোয়ারে গলাচিপা বন্যাতলী বাঁধ ভেঙে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন উপজেলার রাঙ্গাবালীর অরক্ষিত পাঁচটি চরাঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে ভাটার জন্য অপেক্ষা করছে।

পাউবো, পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালেহ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সকালে জোয়ারের সময় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জেলায় পাঁচটি পয়েন্টের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশীষ কুমার প্রথম আলোকে বলেন, বাঁধের পাশে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে জন্য দ্রুত খাদ্যসহায়তা দিতে জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। বিষয়গুলো তিনি নিজেই দেখছেন বলে প্রথম আলোকে জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন