বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পানি ঢোকার গলিগুলোতে তিন থেকে চার ফুট উঁচু করে দেয়াল তুলে দিলে জোয়ারের পানি ঢুকতে পারবে না। উদ্যোগের অভাবেই এটি করা হয়নি।
ফোরকান শেখ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, পেড়লী ইউপি

বাজারের ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর ভাদ্র মাসে অমাবস্যার প্রভাবে প্রবল জোয়ার হয়। ৫ থেকে ১০ দিন ধরে ৬ ঘণ্টা জোয়ার ও ৬ ঘণ্টা ভাটা হয়। এভাবে দু-তিন দফা চলে। জোয়ারে অস্বাভাবিকভাবে পানি ফুলে ওঠে। এতে বাজারে হাঁটুপানি হয়। দোকানের ভেতর পানি ঢোকে। কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতা ও বড় ব্যবসায়ীরা। প্লাবিত হওয়ার পর দু-তিন দিন ধরে পানি আটকে থাকে। এবার ৬ সেপ্টেম্বর থেকে উঁচু জোয়ার শুরু হয়, চলে পাঁচ দিন। গত শনিবার পানি নেমে গেছে। তবে ৫ থেকে ১০ দিন পর আবারও উঁচু জোয়ার আসার আশঙ্কা রয়েছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, তাঁরা বাজারে পানি ঢোকার গলিপথে বালুর বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবে পানি আটকানো যায় না। অল্প টাকা খরচ করে এ জোয়ারের পানি ঢোকা বন্ধ করা যায়। ৩০-৪০ বছর ধরে এ অবস্থা চলছে।

পানিতে প্লাবিত হয় বাজারসংলগ্ন ফাজেল আহম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম পেড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, জোয়ারে শ্রেণিকক্ষে অন্তত দুই ফুট পানি হয়। নিচতলায় আছে নয়টি শ্রেণিকক্ষসহ প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, কার্যালয়, বিজ্ঞানাগার ও শিক্ষক মিলনায়তন। এসব কক্ষে পানি ঢোকে। দোতলায় আছে মাত্র চারটি কক্ষ। এ অবস্থায় ক্লাস চালানো সম্ভব হয় না। বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি ও দরকারি আসবাব নিচে রাখা যায় না। যাতায়াতে দুর্ভোগ হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। একই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।

পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোরকান শেখ বলেন, বাজারসংলগ্ন শীতলবাটি-বড়বিলার খালের পাড়ে বাঁধ দিলে এবং বাজারের পূর্ব পাশে পানি ঢোকার গলিগুলোতে তিন থেকে চার ফুট উঁচু করে দেয়াল তুলে দিলে জোয়ারের পানি ঢুকতে পারবে না। এতে মাত্র এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাগে। উদ্যোগের অভাবেই এটি করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন