বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বানারীপাড়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পৈতৃক ভিটায় নারীশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় শেখ রাসেল স্কুল অব ফিউচারের তালিকাভুক্ত। বিদ্যালয়টির মূল ফটক-সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ১৯৬৬ সাল থেকে বানারীপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনের ব্যবহৃত সম্পত্তি। পরবর্তী সময়ে ডিক্রিবলে অনুপ কুমার বিশ্বাস ও তাঁর ভাই পল্লব কুমার বিশ্বাসের মালিকানার ১৩ শতক সম্পত্তির মধ্যে ৮ শতক জমি সম্প্রতি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সরকার অধিগ্রহণ করে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো ইউপি ভবনটি কর্তৃপক্ষ দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করায়, ক্রেতা ভবনটি কয়েক দিন ধরে ভাঙার কাজ করছেন, যা এখনো চলমান। ওই ৮ শতক জমি দেওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন আরও ২-৩ শতক জমি থেকে যায়। ইউপি ভবনটি ভাঙার ফলে বিদ্যালয়ের ওই অংশ সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক, বিদ্যালয় ব্যবস্থা কমিটি ও অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়।

ওই বালিকা বিদ্যালয় শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ও তাঁর চাচাতো ভাই প্রফুল্ল কুমার গুহের জমিতে প্রতিষ্ঠিত। ওই বিদ্যালয়ের পাশেই প্রয়াত প্রফুল্ল কুমার গুহের দুই ছেলে অনুপ কুমার গুহ ও পল্লব কুমার গুহের নামে রেকর্ড থাকা ৫ শতাংশ জমি গত রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ের নামে সাংসদ দখলে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে একটি প্রতারণা মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি অনুপ কুমার বিশ্বাস। তিনি বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য নিজেকে গুহ পরিবারের সদস্য প্রমাণের ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বাস পদবির সঙ্গে গুহঠাকুরতা পদবি ব্যবহার করে আসছেন। অনুপ কুমার বিশ্বাসের দাবি করা ওই সম্পত্তির আরও বেশ কয়েকজন মালিক দাবিদার রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রকৃত মালিক শনাক্ত করে ওই সম্পত্তির যথাযথ মূল্য পরিশোধ করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্মত আছে।

ওই বালিকা বিদ্যালয় শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ও তাঁর চাচাতো ভাই প্রফুল্ল কুমার গুহের জমিতে প্রতিষ্ঠিত। ওই বিদ্যালয়ের পাশেই প্রয়াত প্রফুল্ল কুমার গুহের দুই ছেলে অনুপ কুমার গুহ ও পল্লব কুমার গুহের নামে রেকর্ড থাকা ৫ শতাংশ জমি গত রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ের নামে দখলে নেন সাংসদ। এ সময় জমি দখলে বাধা দেন অনুপ কুমার গুহ। কিন্তু সাংসদ শাহে আলম তাঁকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার মেয়ে মেঘনা গুহঠাকুরতা সাংসদ শাহে আলমের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে সোমবার সকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

অনুপ কুমার গুহ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা জীবিত অবস্থায় বানারীপাড়া সদর ইউপি ছিল ওই ভবনে। এরপর বানারীপাড়া পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওই জমি তাদের, এই মর্মে একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্রের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ওই আবেদনের পর ওই জমির ওপরে স্থগিতাদেশ জারি করেন।

এ বিষয়ে প্রথম আলোতে ‘সাংসদের উপস্থিতিতে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার স্বজনদের জমি দখলের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের করা অভিযোগের বিষয়ে অনুপ কুমার গুহ আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাবা প্রফুল্ল গুহ ও শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা আপন কাকাতো ভাই। এটা সবাই জানেন। এখন নতুন করে আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দখলসত্তাকে বৈধ করার অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি গুহ পরিবারের সন্তান কি না, এটা মেঘনা গুহঠাকুরতাই তো শনাক্ত করেছেন। এরপর আবার এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। আমি জমি দখলের বিষয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন