বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সুনীল চন্দ্র মণ্ডলের দাবি, হায়দার আলীকে সমর্থন করার কারণে তাঁর পাটের গুদাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর গুদামে ৪০০ মণ পাট ছিল। এতে তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাদসা ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ছারোয়ার হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হায়দার আলী। সুনীল চন্দ্র আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও এবারের ইউপি নির্বাচনে তিনি হায়দার আলীর পক্ষে কাজ করছেন। গতকাল রাতে সুনীল খাওয়াদাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে তাঁর বাড়িসংলগ্ন পাটের গুদামে আগুন জ্বলতে দেখেন আশপাশের লোকজন তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে খবর পেয়ে জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

সুনীল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি, কিন্তু এবার ইউপি নির্বাচনে আমার দলীয় প্রার্থী পছন্দ হয়নি। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে হায়দার আলীর পক্ষে নির্বাচন করছি। আমি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করছি, এ কারণে আমাকে ছারোয়ার হোসেনের কর্মী-সমর্থকেরা হুমকি দিচ্ছিলেন। আমার পাটের গুদামে বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগ নেই। অথচ আমার পাটের গুদাম আগুনে পুড়ল। আমার গুদামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ করব।’

default-image

বিদ্রোহী প্রার্থী হায়দার আলী অভিযোগ করে বলেন, সুনীল চন্দ্র মণ্ডল তাঁর পক্ষে কাজ করায় ছারোয়ার হোসেনের লোকজন সুনীলের পাটের গুদাম পুড়িয়ে দিয়েছেন। গতকাল রাতে তাঁর এক সমর্থককেও মারধর করা হয়েছে। ছারোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা নানাভাবে তাঁর সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে গতকাল রাত নয়টার ভাদসা মোড়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় হায়দার আলীর আরেক সমর্থক চঞ্চল চন্দ্রের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত চঞ্চল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ছারোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা অতর্কিত এসে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন।

তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছারোয়ার হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘হায়দার আলী পরাজয় নিশ্চিত জেনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে পাটের গুদামে আগুন লেগেছে, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আমাকে জানিয়েছেন।’

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান প্রথম আলোকে বলেন, দুর্গাদহ বাজারে একটি পাটের গুদাম আগুনে পুড়েছে। আগুন লাগার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগুনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শওকত আলী জোদ্দার বলেন, তদন্ত ছাড়া পাটের গুদামে আগুন লাগার সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন