পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া ওই ছাত্রী (২১) জয়পুরহাটের একটি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর মায়ের সঙ্গে বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তাঁর বাবা একটি মামলায় কারাগারে। তিনি ভাই ও ভাবির সঙ্গে বাড়িতে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁর ভাই স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যান। এরপর ওই ছাত্রী বাড়িতে একাই ছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি স্বজনদের সঙ্গে পিকনিক স্পটে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁরা শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আসেন। রাতে বাড়িতে থাকতে ওই ছাত্রী তাঁর এক প্রতিবেশীর দুই মেয়েকে ডেকে আনেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাঁরা একই কক্ষে ছিলেন। এরপর মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ওই কলেজছাত্রী পাশের কক্ষে আসেন। প্রতিবেশীর ওই দুই মেয়ে ওই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। তারা শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বাইরে থেকে তাদের কক্ষের দরজা খুলতে পারছিল না। পরে তারা বিকল্প দরজা দিয়ে বাইরে এসে পাশের কক্ষে কলেজছাত্রীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে। তারা বাড়িতে গিয়ে তাদের মাকে ঘটনাটি জানায়। এরপর স্থানীয় লোকজন এসে লাশ দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।

বেলা একটার দিকে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, পাঁচবিবি থানা–পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা বাড়িটিতে অবস্থান করছেন। ওই ছাত্রীর লাশ যে কক্ষে, সেটি তালাবদ্ধ। পাশের কক্ষে ওই ছাত্রীর বড় বোন কান্নাকাটি করছেন।

ওই ছাত্রীর বড় বোন বলেন, ‘আমার বোন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। এখন স্বপ্ন অধরা থাকল। আমার বোনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।’

পাঁচবিবি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইশতিয়াক আলম বলেন, ‘শনিবার সকালে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। ওই ছাত্রীর লাশ খাটের ওপর পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাজশাহী সিআইডির ক্রাইম সিনের টিম সন্ধ্যায় লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন