আজ বুধবার দুপুরে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মাছুম আহাম্মদ ভুঞা তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চারটি চোরাই মিটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কালাই উপজেলার বেগুন গ্রামের মাহাফুজার রহমান ওরফে সাদ্দাম (৩০), কাথাইল গ্রামের মো. জয়নাল ওরফে হাজারী (৩৭), মাত্রাই গ্রামের জাকারিয়া (২৫), আরিফ হোসেন (২০) ও সুজাউল মিয়া (২০), দেওগ্রামের আঞ্জুমান (২৯) এবং হাটশিখা গ্রামের কানাই চন্দ্র মহন্ত (৪২)।

মিটার চুরির ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ চক্রটি মিটার চুরির স্থানে চিরকুটে মুঠোফোন নম্বর রেখে যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা বিকাশে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জয়পুরহাট জেলায় গভীর-অগভীর নলকূপ, মিল–কারখানার মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। মিটার চুরির ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ চক্রটি মিটার চুরির স্থানে চিরকুটে মুঠোফোন নম্বর রেখে যায়। মিটার মালিকেরা রেখে যাওয়া ওই মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন। এরপর চক্রের সদস্যরা বিকাশে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা পাওয়ার পর চুরি হওয়া মিটারগুলো ফেরত দিচ্ছিল তারা। তবে ট্রান্সফরমার চোর চক্র কোনো সূত্র রেখে যায় না। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিটার চোর চক্রের দুই নেতাকে ঢাকার আশুলিয়া ও বনানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিটার চুরির মূল হোতা মাহফুজার রহমান ওরফে সাদ্দাম এবং দ্বিতীয় প্রধান জয়নাল ওরফে হাজারী। তাঁরা ঢাকার আশুলিয়া ও বনানী থেকে জয়পুরহাটে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত ১৪ জন সক্রিয় মিটার চোরকে গ্রেপ্তার করেছেন। মাহফুজার রহমান সাদ্দামের বিরুদ্ধে আটটি ও জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ছয়টি অস্ত্র, ডাকাতি ও ছিনতাই মামলা রয়েছে। পুলিশ ট্রান্সফরমার চোর চক্রটিকেও চিহ্নত করার চেষ্টা করছে। শিগগিরই এই চক্রটিকে আটক করা হবে।

গত এক বছরে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোয় ‘পুলিশের গাফিলতি, চোরেরা অধরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর জেলা পুলিশ ট্রান্সফরমার ও মিটার চোর ধরতে তৎপরতা শুরু করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন