default-image

জয়পুরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর তাঁর স্বামী পাঁচ বছরের ছেলেসন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার বেল আমলা গ্রামে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষের চৌকির নিচ থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত নারীর নাম মনিকা রানী মহন্ত (২৫)। তাঁর স্বামীর নাম অনুকূল মহন্ত। কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে মনিকা রানীর সঙ্গে অনুকূলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অনুকূল তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন করছিলেন। তিনি প্রতিদিন কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যে টাকা রোজগার করতেন, সেই টাকার বেশির ভাগই মাদক সেবনের পেছনে ওড়াতেন। সংসারের বাজারসদাইও করতেন না। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দিনই তাঁর ঝগড়া হতো। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মাদক সেবন করে বাড়িতে ফিরে তিনি স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকেন। প্রতিবেশীরা কান্নার আওয়াজ পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন। এ সময় তাঁরা অনুকূলকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। অনুকূল এ সময় প্রতিবেশীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তখনকার মতো মারপিট বন্ধ করেন। তবে রাতে তিনি আবারও স্ত্রীকে মারপিট করতে থাকেন। প্রতিবেশীরা রাতে আর তাঁর বাড়িতে যাননি। আজ সকাল সাড়ে নয়টায় দিকে এক এনজিওকর্মী কিস্তির টাকা নিতে অনুকূলের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে কাউকে না পেলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁরা শয়নকক্ষের দরজা খুলে অনুকূলের স্ত্রী মনিকা রানীর লাশ চৌকির নিচে পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ঘটনাটি থানা-পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

জামাই আমার মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার মেয়েকে কখনো আর ফিরে পাব না। এখন আমার বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই।
ছবি রানী, নিহত মনিকা রানীর মা
বিজ্ঞাপন

অনুকূলের কাকাতো ভাই ও প্রতিবেশী রঞ্জিত কুমার বলেন, ‘অনুকূল মঙ্গলবার বিকেল থেকে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করছিলেন। তখন আমরা গিয়ে বাধা দিয়েছিলাম। এতে আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। বুধবার রাতে আবারও আমরা মারধরের শব্দ পাই। তবে রাতে আর কেউ যাননি। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি মাঠে কাজ করতে যাই। প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে আমাকে জানান, অনুকূল তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করে পাঁচ বছরের সন্তান অপূর্বকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। আমি অনুকূলের বাড়িতে এসে দেখি, অনুকূলের স্ত্রীর লাশ চৌকির নিচে পড়ে আছে। অনুকূল ও তাঁর সন্তান অপূর্ব কেউ বাড়িতে নেই।’

মনিকা রানীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ কে এম আলমগীর জাহান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জয়পুরহাট সদর থানা

নিহত মনিকা রানীর মা ছবি রানী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘জামাই আমার মেয়েকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার মেয়েকে কখনো আর ফিরে পাব না। এখন আমার বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই।’

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলমগীর জাহান প্রথম আলোকে বলেন, মনিকা রানীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য পড়ুন 0