বিজ্ঞাপন

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোজ্জামেল হক বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার দুই শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, যাঁদের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে, তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

default-image

জেলার নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রানাপাশা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। গজালিয়া, বিষখালী ও চামটা তিন নদীর মোহনায় গ্রামটির অবস্থানের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। এই গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধ কৃষক চান মিয়া বলেন, ‘পানিতে আমার ঘর তলিয়ে গেছে। তাই আজ রান্নাও হয়নি। ভয় হচ্ছে আর কত পানি বাড়ে।’ ইসলামাবাদ গ্রামের ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, এলাকার পানিবন্দী মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসহায়তা দরকার। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

default-image

এদিকে জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিষখালী নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ ভবনসহ শত শত ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে তালিয়ে গেছে। উপজেলার কাঁঠালিয়া ও বড় কাঁঠালিয় গ্রামে বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ওই এলাকা ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার শস্যের খেত ও মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

default-image

কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ ভবন, লঞ্চঘাট এলাকা, কাঁঠালিয়া, বড় কাঁঠালিয়া, আউরা, জয়খালী, কচুয়া, রঘুয়ার চর, আমুয়া বন্দর বাজার, সরদার পাড়া, জোড়খালী, বাঁশবুনিয়া, ছোনাউটা, মরিচবুনিয়া, আওরাবুনিয়া, হেতালবুনিয়া, চিংড়াখালী, জাঙ্গালিয়াসহ ২৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বড় কাঁঠালিয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছর আম্পানের সময় আমাদের গ্রামের বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেছে। ইয়াসের প্রভাবেও নতুন করে বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।’

default-image

আজ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী রাজাপুরের পানিবন্দী এলাকা ও কাঁঠালিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, পানিবন্দী মানুষের জন্য সাধ্য অনুযায়ী ত্রাণসহায়তা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন