বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চরে ছৈলা ছাড়াও কেয়া, হোগল, রানা, এলি, মাদার, আরগুজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে। এসব গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত থাকে চরের অরণ্য। বেলাশেষে পশ্চিম আকাশে সূর্য যখন অস্ত যায়, সেই দৃশ্য দর্শনার্থীদের মন ভরায়।

কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এখানে এডিবির অর্থায়নে তৈরি হয়েছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দুটি রেস্ট হাউস, একাধিক গোল ঘর, সুদৃশ্য ডিসি লেক ও ইকোপার্ক। বিষখালী নদীর পাশ দিয়ে পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বেশ কিছু লাল রঙের নৌকা। পুকুর ও লেকে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। পর্যটকদের জন্য রয়েছে নিরাপদ পানির নলকূপ ও মানসম্মত শৌচাগার। দর্শনার্থীদের কথা চিন্তা করে নির্মাণ করা হয়েছে একটি কাঠের সেতু, যেটি ব্যবহার করে সহজেই হেঁটে যাওয়া যাবে ছৈলারচরে। শিশুদের জন্য আছে একাধিক দোলনা ও শিশু কর্নার। চরের একদিকে ২০ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে ডিসি ইকোপার্ক।

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ছৈলারচরকে আরও উন্নত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানে মিনি চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, টাওয়ার নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে মনে করেন তিনি।

default-image

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে বেড়াতে এসেছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ প্রিয়জনের ছবি মুঠোফোনের ক্যামেরাবন্দী করছেন। ছৈলার চরে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা ভান্ডারিয়ার ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, ‘করোনায় দীর্ঘদিন ঘরে বন্দী থাকার পর পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছৈলারচরে বেড়াতে এলাম। বিষখালীর অপরূপ সৌন্দর্য দেখে খুব ভালো লাগছে।’

default-image

বেতাগী মোকামিয়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা বন্ধুদের নিয়ে ছৈলারচরে ঘুরতে আসি। ছৈলারচর অসাধারণ একটি পিকনিক স্পষ্ট। আগে এই চরে তেমন কিছুই ছিল না। এখন অনেক স্থাপনা ও দোকানপাট হয়েছে, যা পর্যটকদের এখানে বেড়াতে আসতে উদ্বুদ্ধ করছে।’

ছৈলারচরের স্বেচ্ছাসেবক মো. সাগর আকন জানান, এখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ বেড়াতে আসেন। তাঁদের নিরাপত্তাসহ যেকোনো প্রয়োজনে তিনি থাকেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন