default-image

পোশাক কারখানার আয়রনম্যান রাকিব সরদার (২৪) পাঁচ মাস আগে শিশু আসনান আদীপদের আশুলিয়ার টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তখনই চার বছরের শিশু আসনানকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন রাকিব। সখ্য গড়ে তোলেন আসনানের সঙ্গে। এক মাস আগে রাকিব ওই বাসা ছেড়ে চলে যান। ২১ মার্চ আসনানকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে আশুলিয়া থেকে অপহরণ করে মানিকগঞ্জের যমুনার তীরের চর এলাকায় নিয়ে যান রাকিব। শিশুটির বাবার কাছে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণের টাকা না দিলে আসনানকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার র‌্যাব-৪–এর একটি দল সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাঘুটিয়া দুর্গম চর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে শিশু আসনানকে উদ্ধার করেছে। অপহরণকারী রাকিবকেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। পরে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর, পাইকপাড়া র‌্যাব-৪–এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪–এর পরিচালক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, আসনানের পরিবারের অভিযোগ পেয়ে র‍্যাব কাজ শুরু করে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার দুর্গাপুর পূর্ব চালা বাড়ির সামনে থেকে শিশু আসনান অপহৃত হয়। ওই ঘটনার পরদিন অপহরণকারী ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। অপহৃত শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

র‌্যাব-৪–এর পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামি রাকিব সরদার ঘটনার দিন বিকেলে শিশুটিকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর লোভ দেখান। শিশুটির নিজ বাসার গেট থেকে রিকশায় করে জিরাবো এলাকায় নিয়ে যান। পরে বাসে করে সাভারের নবীনগর হয়ে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার উথুলি এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে জাফরগঞ্জ বাজারে নিয়ে যান। সেখান থেকে ট্রলারে করে যমুনা নদী পার হয়ে দৌলতপুর থানার দুর্গম চর বাঘুটিয়ায় রাকিবের বাড়িতে শিশুটিকে আটকে রাখেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন