বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন দলের তরুণ নেতা মো. শাহাদাত হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে লড়ছেন ঝিনাইগাতী ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মোফাজ্জল হোসেন। ধানশাইল ইউপির আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. তৌফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। কাংশা ইউপি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জহুরুল হক। তাঁর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন কাংশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. আনার উল্লাহ। গৌরীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুল ইসলাম। নলকুড়া ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. মজিবর রহমান। আর মালিঝিকান্দা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুস সামাদ।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিনাইগাতীর অধিকাংশ ইউনিয়ন থেকে বিএনপি করেন—এমন নেতারা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। আওয়ামী লীগে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকায় বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং নির্বাচনী তরি পার হতে তাঁদের বেশ বেগ পেতে হবে। ভোটাররা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের পথের কাঁটা হিসেবে মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আবেদন করে অনেকেই দলের মনোনয়ন পাননি। তাঁরাই নিজেদের অবস্থান সুসংহত মনে করে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। এতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম এ ওয়ারেজ নাইম বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থীদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটিই জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন, তাঁকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। তারপরও যাঁরা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আজ সোমবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার সাত ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪২, সাধারণ সদস্য পদে ২৬৩ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন