বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সেলিনা খাতুন প্রথম আলোকে জানান, প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। তিন কক্ষের বাড়ির একটি কক্ষে তিনি দুই সন্তান আপন (১১) ও জীবনকে (৯) নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের আরেকটি কক্ষে তাঁর স্বামী রেজাউল ঘুমাচ্ছিলেন। আনুমানিক রাত তিনটার দিকে হঠাৎ তাঁর ঘুম ভাঙলে বাড়ির ভেতরে লোকজনের কথা শুনতে পান। একটু পর তিনি তাঁর স্বামীর আর্তনাদের শব্দ পান। এ সময় তিনি ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সেলিনা খাতুন জানান, বাইরে স্বামীকে মারধর করা হচ্ছে বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ঘর থেকে চিৎকার করেন। কিন্তু মধ্যরাত হওয়ায় প্রতিবেশীদেরও আসতে সময় লেগেছে। কিছুক্ষণ পরেই প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে এসে দেখেন রেজাউলকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সিঁড়িঘরের সামনে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে। এ সময় প্রতিবেশীরা সেলিনা খাতুনের ঘরের দরজা খুলে দেন। তৎক্ষণাৎ রেজাউলকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশীরা সেলিনার চিৎকার শুনে ওই রাতেই বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান রেজাউল গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখনই রেজাউলকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

নিহত ব্যক্তির বোন নাজমা খাতুন জানান, তার ভাই খুবই সহজ-সরল মানুষ। তাঁর কোনো শত্রু আছে বলে তাঁরা জানেন না। কী কারণে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, সেটি তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, ঘটনাটি ব্যক্তিগত আক্রোশ, পারিবারিক শত্রুতা বা কোনো নারীঘটিত কারণে ঘটতে পারে। তদন্ত ছাড়া হত্যার কারণ বলা সম্ভব নয়। পুলিশ সব বিষয় বিবেচনায় রেখে খোঁজখবর নিচ্ছে, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন