ফরিদ শেখের স্বজনেরা জানান, গতকাল রোববার রাতে শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে আবাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রাজ্জাকের পক্ষের লোকজন ওই আসামিকে বর্তমান সদস্য রবিউল ইসলামের সমর্থকেরা ধরিয়ে দিয়েছেন বলে দোষারোপ করেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে আবাইপুর বাজারে আজ সকালে আবদুর রাজ্জাক ও রবিউল ইসলামের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফরিদ শেখের স্বজনেরা আরও জানান, এ ঘটনার জেরে দুপুরে সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আহত ফরিদ শেখকে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তাঁদের প্রতিপক্ষ আবদুর রাজ্জাক পক্ষের সমর্থকেরা। এ সময় পাশের বেডে থাকা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ছোটাছুটি করতে থাকেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিরা ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় এক কিশোরকে আটক করে তাঁরা পুলিশে দেন।

সদর হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, তাঁরা রোগীদের চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখেন, কয়েকজন মিলে এক রোগীকে কোপাচ্ছে ও পেটাচ্ছে। তাঁরা সবাই সেখানে এগিয়ে গেলে তিনজন পালিয়ে যায় এবং একজনকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফাল্গুনী রানী সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ফরিদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের ছোট ছোট আঘাত আছে। মারপিটেরও কিছু চিহ্ন আছে। তবে সেটা খুব গুরুতর নয়।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে এক কিশোরকে আটক করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন ঘটনায় পুলিশ অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে। ইতিমধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রেজাউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা পালিয়ে গেছেন। হাসপাতালের মধ্যে মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সবার ভাবা উচিত। এ জন্য হাসপাতালে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারার বিষয়টি চিন্তা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন