default-image

কেরানীগঞ্জের মধ্যচড়াইল এলাকায় উল্টে যাওয়া তিনতলা ভবনের পাশের পাঁচটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সিলগালা করে উপজেলা প্রশাসন। আজ সোমবার সেগুলো পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এরপরও এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে।

গত শুক্রবার সকালে এই পাঁচ ভবনের পাশে জানে আলম নামের এক ব্যক্তির তিনতলা ভবন উল্টে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা পাঁচটি ভবন উল্টে যাওয়া ভবনের ২০০–৩০০ ফুট দূরত্বের। এগুলো মজিবুর রহমান, মঞ্জুর আলম, মামুন হোসেন, মো. নিজাম ও আবদুর রাজ্জাক নামের পাঁচজনের মালিকানাধীন। আবদুর রাজ্জাকের বাড়িটি পাঁচতলা, মজিবুরের দোতলা আর মামুন, নিজাম ও মঞ্জুরের বাড়ি একতলা।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রকৌশলী শাজাহান আলী, সদস্যসচিব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এবং ফায়ার সার্ভিসের কেরানীগঞ্জ স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। তাঁরা উল্টে যাওয়া জানে আলমের বাড়িটির বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক শাজাহান আলী বলেন, ভবনগুলো নির্মাণে কারও কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, কোনো ত্রুটি–বিচ্যুতি আছে কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাল মঙ্গলবার সকালে ভবনের মালিকদের নির্মাণসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেগুলো যাচাই–বাছাই করে আগামী বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কমিটির পরিদর্শনের সময় জানে আলমের উল্টে যাওয়া বাড়ি থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। ডোবার পানিতে তলিয়ে থাকা ভবনের কক্ষ থেকে খাট, আলমারিসহ অন্যান্য আসবাব সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ভবনটির পাশে জানে আলমের ছোট ভাই মঞ্জুর আলমের মালিকানাধীন একতলা ভবনের কক্ষ থেকেও আসবাবপত্র সরিয়ে নেন পরিবারের সদস্যরা।

অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা বাকি ভবনগুলোতে পরিবারের সদস্যদের বসবাস করতে দেখা যায়। মজিবুর রহমানের দোতলা ভবনের কক্ষগুলোতে আসবাব রাখা। মজিবুর রহমান বলেন, চার বছর আগে পাঁচতলার ভিত্তির ওপর বাড়িটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের সময় কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি। মজিবুর বলেন, তাঁর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এরপরও তদন্ত কমিটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। এখন তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাতে ভবনের কক্ষে থাকেন না।

পাঁচতলা ভবনের মালিক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৪ সালে ছয়তলার ভিত্তির ওপর তিনি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেন। সেখানে ১৩টি পরিবার বসবাস করছে। জানে আলমের ভবন উল্টে যাওয়ার পর তাঁর বাসার ভাড়াটেরা অন্য জায়গায় চলে যেতে শুরু করেছেন। আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, তিনি সরকারি নিয়মনীতি মেনে ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়েই ভবনটি নির্মাণ করেন। অথচ উপজেলা প্রশাসন তাঁর বাড়িও ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন