default-image

যে যুবকের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা, সেই ঝুমন দাশ ওরফে আপনের (২৮) বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক আজ বুধবার প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই মামলায় ঝুমন দাশকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে ১৬ মার্চ রাতে আটকের পর তাঁকে ১৭ মার্চ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সেদিন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি বর্তমানে কারাগারে।

নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার ঘটনায় দিরাই থানায় আরও দুটি মামলা হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম বাদী হয়ে করা মামলায় ১ হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর পক্ষে গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদারের করা মামলায় ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১ হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার মামলার প্রধান আসামি শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীনকে পাঁচ দিনের এবং আরও ২৮ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ঝুমন দাশ ওরফে আপনের (২৮) বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি হয়েছে সোমবার রাতে। মামলার বাদী হয়েছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম।

ওসি নাজমুল হক আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রামবাসীর মামলা দ্রুত বিচার আইনে রেকর্ডের দাবি

এদিকে, নোয়াগাঁওয়ে হামলার ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দেওয়া মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে রেকর্ড করার দাবিতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী আজ বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হকের কাছে এই স্মারকলিপি দেন তাঁরা। একই সময় দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ মার্চ নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার নোয়াগাঁওয়ের ঘটনায় শাল্লা থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। এজাহারের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী থেকে দেখা যায়, মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/২৯৫/৫০৬/৩৪ ধারায় রেকর্ড বা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এজাহারের বিষয় ও গুরুত্ব বিবেচনায় এজাহারটি দণ্ডবিধির উল্লিখিত ধারায় লিপিবদ্ধ করা মোটেও সমীচীন বা গ্রহণযোগ্য হয়নি। বরং এজাহারটি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২-এর অধীনে লিপিবদ্ধ করা যথোপযুক্ত ছিল। কারণ, এজাহারের বিষয় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২-এর ধারা ২-এর উপধারা (ই), (ঈ), (উ) পুরোপুরি সমর্থন করে।

স্মারকলিপি প্রদানের আগে শাল্লা সদর বাজারে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস, নোয়াগাঁও গ্রামের প্রবীণ হরিপদ দাস, আইনজীবী সুব্রত দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎ চন্দ্র দাস, সাবেক ব্যাংকার অবিনাশ দাস প্রমুখ।

এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ সকালে নোয়াগাঁও গ্রামের ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাল্লা শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মার্চ দিরাই উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। পরে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে নোয়াগাঁও গ্রামের যুবক ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে। এর জেরে ১৭ মার্চ সকালে শাল্লা উপজেলার কাশিপুর, দিরাই উপজেলার নাসনি, সন্তোষপুর ও চণ্ডিপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামের পাশের ধারাইন নদের তীরে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চালান।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন