বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জের শাল্লার বাসিন্দা ঝুমন দাশ (২৫)। হেফাজতে ইসলামের কারাবন্দী সাবেক নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করা হয়। ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, ১৬ মার্চ ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ সুনামগঞ্জর শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়। এর আগে ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে আটক করে থানা-পুলিশ। তাঁকে ১৭ মার্চ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সেদিন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ২২ মার্চ শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। এই মামলায় গত ২৩ মার্চ ঝুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ৩০ মার্চ তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দী।

‘ফেসবুকে লেখা কি বাড়িঘরে হামলার চেয়ে বড় অপরাধ?’—এ কথা লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করে অবস্থান কর্মসূচি একটানা দেড় ঘণ্টা চলে।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বলা হয়, ঝুমনের মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ ও ঢাকায় একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। আদালতে তাঁর জামিনের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও নামঞ্জুর হয়েছে। এরপর গতকাল মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরার সংগঠক আবদুল করিম চৌধুরী। গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের সংগঠক দেবাশীষ দেবুর সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে একাত্ম হয়ে বক্তব্য দেন আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় ধর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এনামুল মুনির, বাসদের (মার্ক্সবাদী) আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সংগঠক কাশমির রেজা, আবদুল হাই আল-হাদী, কবি আবিদ ফয়সাল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু গ্রামে হামলা ও লুটপাটের মূল হোতারা জামিনে মুক্ত আছেন। কিন্তু লুটপাটকারীদের সম্পর্কে আগেই হুঁশিয়ারি করে দেওয়া সাহসী তরুণ ঝুমন দাশের জামিন হয় না। তিনি কারাবন্দী আছেন ছয় মাসের বেশি সময় ধরে। একজন সাহসী মানুষকে রাষ্ট্রের যেখানে পুরস্কৃত করার কথা, সেখানে নিগৃহীত করা হচ্ছে।

ঝুমন দাশের মুক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার নামের এই কালো আইন বাতিল করার দাবি জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তবারক হোসেইন বলেন, ‘আমাদের সংবিধান প্রণয়নকালে নিবর্তনমূলক কোনো আইন ছিল না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শুধু কালো আইন নয়, এই সময়ের জন্য একটি নিবর্তনমূলক আইন, যার সর্বশেষ শিকার ঝুমন দাশ। আমরা ঝুমন দাশের মুক্তি চাই, নিবর্তনমূলক আইনেরও অবসান চাই।’

ঝুমন দাশ পেশায় একজন প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির ব্যবসায়ী। তাঁর স্ত্রী পড়াশোনা করেন। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে। নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ঝুমনের মুক্তির জন্য এখন উচ্চ আদালতের দিকে পরিবারসহ বিবেকবান মানুষেরা তাকিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরার সংগঠকেরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন