বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা আরও বলেন, ঝুমন দাশের ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে ১৭ মার্চ সকালে এলাকার তিনটি গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চালায়। এর আগের দিন রাতে স্থানীয় লোকজন ঝুমন দাশকে ধরে পুলিশে দেন। ঝুমন ১৭ মার্চ থেকে কারাগারে।

এ ঘটনায় পরে শাল্লা থানায় তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি এবং নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। পুলিশই ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করে। অন্য মামলা দুটি নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা। এ ছাড়া ঝুমন দাশের মা নিভা রানী দাশ বাদী হয়ে আদালতে আরেকটি মামলা করেন। এসব মামলায় আসামি করা হয় প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে।

পুলিশ ঘটনার চার দিন পর ২০ মার্চ হামলার মূল উসকানিদাতা এলাকার নাসনি গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য ও স্থানীয় যুবলীগের নেতা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২১ জুন জামিন পেয়েছেন। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রেপ্তারসহ আইনের আওতায় এসেছেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন কলেজশিক্ষক এনামুল কবির, সাংবাদিক শামস শামীম ও এ কে কুদরত পাশা, শিক্ষক মো. আমিনুর রশীদ ও সোনালী সরকার, সুনামগঞ্জের শাল্লা সমিতির সভাপতি তাপস তালুকদার, জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শ্যামল দেব, তরুণ উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক, শিক্ষার্থী কে বি প্রদীপ দাস প্রমুখ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝুমন দাশ প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির ব্যবসা করেন। তাঁর স্ত্রী পড়াশোনা করেন। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। ঝুমন দাশের মা নিভা রানী দাশ মুঠোফোনে বলেন, ‘ঝুমনই সংসার চালাত। ছয় মাস ধরে সে জেলে। আমরা বড় কষ্টে আছি। সে তো কোনো দোষ করেনি। আমরা তার মুক্তি চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন