বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাখি বিক্রির তথ্য পেয়ে কামিনীগঞ্জ বাজারের বিজিবি ক্যাম্প চত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিন-চারজন লোক কৌতূহলী হয়ে পাখিগুলো দেখছেন। তাঁরা পাখির জাত কী, দাম কত তা জানছিলেন। একটি ঝুড়িতে ১২টি পাখি। ঝুড়ির মুখ জাল দিয়ে আটকানো। পাখিগুলোর ঠোঁট লম্বা, সূচের মতো। একপর্যায়ে প্রতিবেদক ছবি তুলতে চাইলে বিক্রেতা বাধা দেন। টের পেয়ে তিনি (বিক্রেতা) দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী বললেন, তাঁরা প্রথমে ঝুড়িতে মাছ ভেবেছিলেন। পরে পাখি দেখতে পান। বিক্রেতা সেগুলো ‘ওটা’ পাখি বলে তাঁদের জানান। প্রতি হালির দাম হাঁকেন ১ হাজার ২০০ টাকা। পাখিগুলো কোথায় পেলেন—এ প্রশ্নে বিক্রেতা তাঁদের জানান, হাকালুকি হাওরে জাল দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে ধরা হয়েছে। তিনি শিকারিদের কাছ থেকে কিনে এনেছেন। এক ঝুড়ি তিনি আগেই বিক্রি করে ফেলেছেন।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার জায়ফরনগর ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে হাকালুকি হাওরের একাংশ পড়েছে। দেশের বৃহত্তম এ হাওরটি জুড়ীসহ পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া ও বড়লেখা এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতে বিশ্বের শীতপ্রধান বিভিন্ন দেশ থেকে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির সমাবেশ ঘটে এ হাওরে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধানের সঙ্গে একধরনের কীটনাশক মিশিয়ে ‘বিষটোপ’ তৈরি করে হাওরের বিলের পাড়ে ছিটিয়ে রেখে দেন। ভোরে বিলে খাবারের উদ্দেশ্যে আসা পাখিগুলো খাবার ভেবে ওই ‘বিষটোপ’ খেয়ে মারা যায়। পরে সেগুলো কুড়িয়ে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। আবার জালের ফাঁদ পেতেও দুর্বৃত্তরা পাখি ধরেন।

পাখিগুলোর ছবি দেখে বিশিষ্ট পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক এটিকে ‘বন বাটান’ বলে নিশ্চিত করেন। ইংরেজিতে এই পাখিকে ‘উড সেন্ডপাইপার’ বলা হয়। পরিযায়ী এ পাখি অক্টোবর-নভেম্বর মাসে হাওর এলাকায় বসতি স্থাপন করে। আবার শীত কমতে শুরু করলে পরের বছরের মাচ৴-এপ্রিল মাসে আপন ঠিকানায় ফিরে যায়।

ইনাম আল হক বলেন, পাখি শিকারিদের এ অপতৎপরতা নতুন কিছু নয়। তাঁদের এটা থামাতে হবে। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন লোকদের এগিয়ে আসতে হবে। হাওরে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাস তৈরি করতে হলে এর বিকল্প নেই।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার অধিকারী বলেন, হাওরে পাখি নিধন বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাওরপারের মানুষকে সচেতন করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন