ধানের ছত্রাকজনিত এ রোগ যেসব খেতে ছড়িয়েছে, ওই সব খেতের ধান সম্পূর্ণ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ধানগাছের পাতাও। অনেক কৃষক সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় খেতের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত ব্লাস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ধান সব চিটা হয়ে যাচ্ছে নিমেষে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ঝড়-বৃষ্টি ও ব্লাস্ট রোগের কারণে এবার গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ ধান কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ে ধানগাছ নুইয়ে পড়া এবং নুইয়ে পড়া ধানখেতে পানি জমে যাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শ্রমিক–সংকটের কারণে সময়মতো খেতের ধান ঘরে তুলতে না পারায় নুইয়ে পড়া ধান পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্লাস্ট রোগে ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় ধানের উৎপাদন কম হচ্ছে। গত বছর যেসব জমিতে প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ মণ, সেসব জমিতে এবার ফসল হয়েছে ১৮ থেকে ২০ মণ। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩০ শতাংশ ধানের উৎপাদন কম হতে পারে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) শামীম ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে এবার ঘন ঘন ঝড়-বৃষ্টিতে এ অঞ্চলে বোরোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টি ব্লাস্ট রোগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এবার বৈশাখজুড়েই এ রকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। সে কারণে নওগাঁর কিছু কিছু অঞ্চলে ধানখেতে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ও ব্লাস্টের কারণে এবার প্রায় ২০ শতাংশ ধান উৎপাদন কম হতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় শস্য কর্তন করে দেখা যাচ্ছে, গত বছর যেসব জমিতে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে, এবার সেখানে ২০ মণ উৎপাদন হচ্ছে।

গত রবি ও সোমবার নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল, রানীনগর উপজেলার বিশা, কালিগ্রাম, আত্রাইয়ের মনিয়ারী, নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দনগরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, এখনো কয়েক হাজার একর জমির পাকা ধান মাঠে আছে। অনেক খেতে পানি জমে আছে। পানি জমে থাকায় ধান থেকে আবারও নতুন করে ধানগাছ জন্ম নিচ্ছে। ব্লাস্ট রোগের কারণে মাঠের কোনো কোনো খেতের ধানের শিষ একেবারেই মরে গেছে। ধান চিটা হয়ে গেছে। গাছের ওপরের দিকটা মরে খড়ের মতো হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল ওয়াদুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমানে মাঠের প্রায় শতভাগ ধান পেকে গেছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত মাঠের ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু শ্রমিক–সংকটের কারণে কৃষকেরা ধান কাটতে পারছেন না। বাইরে থেকে এবার কম শ্রমিক আসায় শ্রমিক–সংকট দেখা দিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দু-তিন দিনের মধ্যে বাইরে থেকে পর্যাপ্ত শ্রমিক চলে আসবেন। আগামী এক-দুই সপ্তাহের আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মাঠের ধান কাটা হয়ে যাবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন