বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন বলছেন, পুনর্ভবা নদীর বিভিন্ন জায়গা থেকে তোলা বালু নিয়ে দৈনিক শতাধিক ট্রাক্টর এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করায় সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় জন্মেছে ঘাস। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় ধুলাবালুর বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা জ্যোতিষ রায় বলেন, ‘তিন বছর হই গেইল, খোয়া বিছায় থুইছে। খোয়া উঠি যাওয়াতে রাস্তাত চলাচল মুশকিল হই গেইসে। একবার একখান গাড়ি ঢুকিলে পরেরবার আর আসির চাহেনা। আলু তোলা শুরু হইছে, মালামাল নি যাইতে খুব কাহিচাল হয়।’ প্রায় একই কথা বলছেন গোবিন্দপুর এলাকার মোসলেমউদ্দিন (৫৫)। তিনি বলেন, ‘খোয়া বিছানোর কত দিন হয়ে গেলো। ঠিকাদারেরও দেখা পাওয়া যাচ্ছে না যে কাজটা শেষ করার জন্য বলবো।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে সদর উপজেলার গ্রামীণ এ ও বি শ্রেণির ৪১টি রাস্তার প্রায় ৬০ কিলোমিটার পাকাকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ১০টি রাস্তার কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট রাস্তাগুলোর ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পড়ে থাকা সড়কগুলোর মধ্যে কয়েকটির দরপত্র পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এলএসএল কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ওয়াসি আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম ধাপে ৩০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। তারপরে আর কোনো টাকা পাননি। এদিকে প্রতি কেজি বিটুমিনে ১০-১৫ টাকা, রডে কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকাসহ পাথর, বালু, সিমেন্টের দাম বেড়েছে। সময়মতো টাকা ছাড় হলে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারতেন। তিনি বলেন, মৌখিকভাবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করবেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব রাস্তার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। অর্থ জোগানের চেয়ে কাজের তালিকাটা ছিল লম্বা। দীর্ঘ সময় অর্থ না থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছু কিছু রাস্তার খোয়া নষ্ট হয়ে এমন হয়েছে যে পুনরায় কাজটি করতে হবে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঠিকাদাররা।

সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে ঠিকাদারদের কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আগের চুক্তিমূল্য অনুযায়ী কাজ শেষ করতে হবে। ব্যয় বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। যেসব ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি, তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার জন্য জেলা অফিসে জানান তিনি।

এলজিইডি দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আবদুল আজিজ বলেন, মোট ১৩টি প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর জেলার ৫৬৪ কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। তবে রংপুর বিভাগীয় পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২–এর আওতায় যেসব রাস্তার কাজ হচ্ছে, সেগুলোতে অর্থ সংকুলান না থাকায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন