বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবু তাহের ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি পরিশোধ করার জন্য প্রায় দুই বছর আগে খোরশেদ আলমের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাদন নেন। দাদন বাবদ প্রতি মাসে তিনি ছয় হাজার টাকা সুদ দিয়ে আসছিলেন। টাকা নেওয়ার সময় দাদন ব্যবসায়ী তাঁর কাছ থেকে একটা ফাঁকা নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। গত দুই বছরে তিনি সুদ বাবদ দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

আবু তাহেরের ভাষ্য, গতকাল রাতে খোরশেদ আলম আরও এক লাখ টাকার জন্য তাঁর পেয়ারাবাগানে যান। এ সময় তিনি নগদ এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় খোরশেদ তাঁকে কিলঘুষি মেরে অচেতন করে ফেলেন। একপর্যায়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে রক্ষা করেন। রাতেই তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আবু তাহের বলেন, ‘ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিমিস্টার ফির জন্য খোরশেদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। ইতিমধ্যে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। তিনি আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন। আমি এক মাস সময় চাই। কিন্তু তিনি সময় দিতেও নারাজ। এরপর আমাকে মারপিট করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।’

এদিকে ঘটনার পরপর মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাটি নাটোরের পুলিশ সুপারের নজরে এলে তিনি খোরশেদ আলমকে আটক করার নির্দেশ দেন। এরপর সদর থানা-পুলিশ তাঁকে তাৎক্ষণিক আটক করে সদর থানায় নিয়ে আসে।

আটকের আগে খোরশেদ আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আবু তাহের স্ট্যাম্পে ‘লেখাপড়া’ করে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা পরিশোধ না করে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ জন্য তিনি রাতে আবু তাহেরের বাগানে গিয়েছিলেন। তবে আবু তাহেরকে মারধরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান জানান, পেয়ারাচাষি আবু তাহেরকে মারধরের অভিযোগ পেয়ে খোরশেদ আলমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন