বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিআরটিএর একজন কর্মচারী তাঁকে পরামর্শ দেন,দোকানে গিয়ে টাকা দিলে ওরা তৈরি করে দেবে। তাহলে আর কোনো ঝামেলা থাকবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক

দোকানের লোকজন ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি দোকানের ভেতরে একজন দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ করছেন। তিনি বলেন, ৪০০ টাকা দিলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণসহ সব করে দেওয়া হয়। গ্রাহককে কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। আর ১৩০ টাকা দিলে গ্রাহকের নিজের ফরম পূরণ করে নিয়ে আসতে হয়। সেখানে শুধু চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে দেওয়া হয়।

দোকানে বিক্রি হওয়া সনদে যে চিকিৎসকের স্বাক্ষর রয়েছে, তাঁর নাম মেহেদী হাসান রাসেল। পদবির জায়গায় লেখা রয়েছে এমবিবিএস, সিসিডি (বারডেম), পিজিটি (এমইডি), মেডিকেল স্পেশালিস্ট, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নওশাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালে এই নামে কোনো চিকিৎসক নেই। আর যেভাবে মেডিকেল স্পেশালিস্টের ডিগ্রি লেখা হয়েছে, বাস্তবে এভাবে লেখা হয় না।

এ ব্যাপারে বিআরটিএর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল খালেক মুঠোফোনে বলেন, দুই বান্ডিল আবেদনপত্র যাচাই করে এই চিকিৎসকের নামে সই করা দুটি আবেদনপত্র তিনি পেয়েছেন। এগুলোতে এখনো তাঁর সই হয়নি। এই আবেদনগুলো গত ১৫ ডিসেম্বরের পর জমা হয়েছে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, যিনি গাড়ি চালাবেন, তাঁর সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্যই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সনদ দেওয়া বাধ্যতামূলক। সনদ বিক্রি এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ এ কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একজন মেডিকেল অফিসার অথবা তাঁর কার্যালয়ে এলে ৫০ টাকা চালান জমা দিলে এ সনদ করে দেওয়া হয়। কাউকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন