ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে টিফিনের বিরতির সময় আরাফাত রহমান দোস্ত বাজারের ‘মায়ের দোয়া ফ্যাশন হাউজ’ নামের একটি মনিহারি ও ফাস্টফুডের দোকানে নাশতা কিনতে যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানদারের মেয়ে রুমানা টাকা চুরির অভিযোগ তুলে তাকে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। টাকা চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ে ভয়ভীতি দেখান। আরাফাত এ সময় ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। কান্না শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্কুলে নিয়ে যান।

খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মোমিন ও শিশুটির বাবা মনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানদার আলী আহাম্মেদকে পাননি। এ সময় দোকানদারের মেয়ে রুমানা খাতুন শিশুটির বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে বলেন, ভয়ভীতি দেখানোর জন্য তিনি আরাফাতকে খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন।

দোস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মোমিন প্রথম আলোকে বলেন, আরাফাত প্রথম শ্রেণি থেকে এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। তার বিরুদ্ধে কখনো এ ধরনের অভিযোগ শুনেননি। রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীদের টিফিনের ছুটি দিয়ে শিক্ষকেরা নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে বেলা দুইটার দিকে স্কুলে ফিরে ঘটনাটি জানতে পারেন।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘এক ভদ্রলোক মুঠোফোনে ভিডিও চিত্র দেখিয়ে জানতে চান, শিশুটিকে আমরা চিনি কি না। ভিডিওতে দেখি, শিশু আরাফাত রহমানকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। সে চিৎকার করে কাঁদছে, চোখে-মুখে ভীতি। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েক শিক্ষক আলী আহাম্মেদের দোকানে ছুটে যান এবং রশি খোলা দেখতে পান।’

এদিকে শিশুকে খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও চিত্র মুঠোফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। খবর পেয়ে দর্শনা থানা–পুলিশ আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। শিশুটিকে মাসহ হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি দোকানদার আলী আহাম্মেদ ও তাঁর মেয়ে রুমানা খাতুনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

দর্শনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস প্রথম আলোকে জানান, সোমবার বেলা একটা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। নির্যাতিত শিশু ও তাঁর মাকে হেফাজতে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মামলা হলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।