পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়াল নামের একটি অনলাইন সাইটে টাকা বিনিয়োগ করলে ২১ দিনে দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার লোভনীয় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রচার চালায় একটি চক্র। ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে কামাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রথমে বেশ কয়েকজন টাকা বিনিয়োগ করেন। ২১ দিন পর দ্বিগুণ টাকা পান বিনিয়োগকারীরা। এ দেখে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হয়ে যাওয়ার পর ৭ জুলাই হঠাৎ অনলাইন সাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সন্দেহ হলে কয়েকজন বিনিয়োগকারী গতকাল রাতে কামাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে শিবচর থানার পুলিশ ঝাউকান্দি গ্রাম থেকে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।

জাকির হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী আটক দুজনসহ মোট সাতজনের নামে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শিবচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিদ্ধার্থব্রত কুন্ডু বলেন, অনলাইন ব্যবসার নামে প্রতারণা করছিল একটি চক্র। ওই ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও ব্যাংক হিসাবের চেক জব্দ করা হয়।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অনলাইনে বিনিয়োগ করলে দ্বিগুণ টাকা পাওয়া যাবে—অনেককে এমন প্রতারণার ফাঁদে ফেলে একটি চক্র। অন্তত ৪০ জন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। মামলার বাদীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি এজাহারে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। ওই ঘটনায় অন্য যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে। আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন