বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ জানান, করোনার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি সন্তোষজনক। গড়ে শতকরা ৯২ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী করোনার ছুটি শেষে ক্লাসে ফিরেছে।

সরেজমিন একাধিক উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ক্লাসে না আসা অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়েছে। অনেক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। অনেক ছাত্র দারিদ্র্যের কারণে কাজে ঢুকে গেছে। ঘাটাইলের পাকুটিয়া মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল প্রকাশ চক্রবর্তী। তার বাবা প্রভাস চক্রবর্তী বাবুর্চির কাজ করতেন। করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন বন্ধ ছিল, তেমন বন্ধ ছিল প্রকাশের বাবার কাজ। অসচ্ছল সংসারে খরচ জোগাতে সে দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করে। দীর্ঘদিন পর স্কুল খুললেও তার আর স্কুলে ফেরা হয়নি।

বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদী লাইলী বেগম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম খান জানান, শুধু তাদের স্কুলে ৮৮ জন ছাত্রছাত্রী অনুপস্থিত। করোনার ছুটি শেষে এ চিত্র সর্বত্র। তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ করা হচ্ছে। ওই স্কুলের হাবিবা ঊর্মি নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, তার অনেক সহপাঠীর বিয়ে হয়ে গেছে। করোনার ছুটি শেষে স্কুল খোলার পর তাদের আর ক্লাসে দেখা যাচ্ছে না।

ইব্‌রাহীম খাঁ সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক শংকর দাশ জানান, করোনার ছুটি শেষে স্কুল খুলে দেওয়ার পর অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর ক্লাসে ফিরে না আসাটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এটা শুধু টাঙ্গাইল নয়, সারা দেশে একই চিত্র গণমাধ্যমে জানা যাচ্ছে। শিক্ষক, অভিভাবক এবং সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম জানান, তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে এ বিষয়ে সভা করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে আসছে না, তাদের স্কুলমুখী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন