default-image

টাঙ্গাইল জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামকে তাঁর স্বামী শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেলে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী দেলোয়ার হোসেন পলাতক।

জেলা প্রশাসন, পুলিশ, কুমুদিনী হাসপাতাল সূত্রমতে, প্রায় দুই বছর আগে রেদওয়ানা ইসলাম টাঙ্গাইলে বদলি হয়ে আসেন। তাঁর স্বামী টাঙ্গাইলে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তিনি ভোলায় বদলি হয়ে যান। স্বামী-স্ত্রী দুজন জেলা প্রশাসনের কোয়ার্টারে থাকতেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধও ছিল। গত সোমবার সকালে প্রসবব্যথা নিয়ে রেদওয়ানা ইসলাম কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। সকাল ১০টায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি মেয়েশিশু জন্ম দেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে তাঁর মেয়ে কিছুটা অসুস্থ থাকায় তিনি ছুটি না নিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১১ নম্বর কেবিনে (নতুন কেবিন) থেকে যান। আর শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের তিনতলায় থাকা ইনকিউবেটরে রাখা হয়। সেখান থেকে গতকাল বেলা দুইটার দিকে রেদওয়ানা ইসলাম ও তাঁর শিশুসন্তানের দেখভালের জন্য সঙ্গে থাকা তাঁর মামি খোদেজা বেগম শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাইয়ে পুনরায় তিনতলায় নিয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর খোদেজা বেগম ফিরে এসে কেবিনের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় কর্তব্যরত নার্সকে তিনি বিষয়টি জানান। পরে এক নার্স কেবিনটির দরজা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকে মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল ইসলাম, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) দীপঙ্কর কুমার ঘোষ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেনসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কুমুদিনী হাসপাতালে যান। সেখানে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রেদওয়ানা ইসলামের মামি খোদেজা বেগম বলেন, শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পর যখন তিনি বাইরে বের হন, তখন তাঁর (রেদওয়ানা) স্বামী কেবিনেই ছিলেন। ফিরে এসে তাঁকে আর দেখতে পাননি।

কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তৎক্ষণাৎ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানান।
সহকারী পুলিশ সুপার দীপঙ্কর কুমার ঘোষ জানান, রেদওয়ানার গলায় ওড়না দিয়ে প্যাঁচানোর দাগ দেখতে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন