বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী মানুষ, ভবদহ জলাবদ্ধতার নিরসনে আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর নেতারা, সরকারি সংস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের পথ হিসেবে এলাকার নদীগুলো দিয়ে পরিকল্পিত উপায়ে জোয়ার–ভাটা (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট—জোয়ারাধার) চালু এবং দর্শনায় মাথাভাঙ্গা-পদ্মার সঙ্গে ভৈরব নদের সংযোগ পুনঃস্থাপনকে কার্যকর পন্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সেই পথে হাঁটছে না, তারা জোর দিচ্ছে সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি সেচ এবং নদী খননের ওপর। বর্তমানে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেচ প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নদী খনন করা হচ্ছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা দূর করতে পাউবো ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার একটি সেচ প্রকল্প নিয়েছে।

গত বছর ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের ভারী বৃষ্টিতে অভয়নগর, মনিরামপুর কেশবপুর উপজেলার অন্তত ১২০টি গ্রাম তলিয়ে যায়। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা মাঝারি বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানিতে এসব গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িঘর, শিক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়।

ভবদহ অঞ্চলের নদীগুলো মূলত জোয়ার-ভাটা দ্বারা প্রভাবিত। সমুদ্রের মতো জোয়ারে পানি বাড়ে, ভাটায় কমে। প্রাকৃতিক ও ভূতাত্ত্বিক গঠনকে আমলে না নিয়ে ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের জন্য এলাকার নদীগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণ করার ফলেই ওই জোয়ার-ভাটা থেকে নদীগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পানির সঙ্গে আসা পলি মূল ভূখণ্ডে বা বিলের মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনি। সেগুলো জমা হতে থাকে নদীর বুকে।

জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য কার্যকর উপায় হিসেবে গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে এলাকার মানুষ নদীসংলগ্ন বাঁধের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা কেটে দিয়ে পানি ও পলি ঢুকতে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে বিলের মধ্যে পলি পড়ে জমি উঁচু হয়, জলাবদ্ধতা দূর হয় এবং নদীর গভীরতা বাড়তে থাকে। একই উপায়ে যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করা হয়।

জলাবদ্ধতা দূর করতে ২০২০ সাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচের কাজ করছে। এ পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবদহ ২১ ভেন্ট (কপাট) স্লুইসগেটের ওপর ১৪টি এবং ৯ ভেন্ট স্লুইসগেটের ওপর ৬টি বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র বসানো আছে। স্লুইসগেটের একপাশের নদী থেকে পানি সেচে পাইপের মাধ্যমে অপর পাশে নদীতে ফেলা হচ্ছে। ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে ২১ ভেন্ট স্লুইসগেটের উজানে ৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার শ্রী ও টেকা নদীতে এবং প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১ ভেন্ট স্লুইসগেটের উজানে ৫ কিলোমিটার হরি নদীতে পাইলট চ্যানেল কাটার কাজ চলছে।

যশোরের অভয়নগরের ডুমুরতলা গ্রামের প্রণব কুমার বৈরাগী। তাঁর পৈতৃক বাড়ি আর ফসলের জমি পানির নিচে। তিনি বলেন, আট-নয় বছর ধরে টিআরএম বন্ধ থাকায় এই এলাকার প্রায় ১২০ গ্রাম থেকে আর পানি নামছে না।

ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে টিআরএম বহুভাবে পরীক্ষিত বলে জানিয়েছেন ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। তিনি বলেন, নদী খননের নামে অর্থ লুটপাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচে ভবদহের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এতে অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয়নি।

তবে সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচ সফল হয়েছে বলে মনে করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড, যশোরের কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ভবদহে ২০টি পাম্পসেট (সেচযন্ত্র) দিয়ে সেচ চলছে। বড় পরিসরে সেচের কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এ জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকার একটি ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন