বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আহত ব্যক্তিরা হলেন মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশ নাছির উদ্দিন, মো. শিমুল ও স্বেচ্ছাসেবক মো. মুরাদ। আহত অন্য দুজন টিকা নিতে গিয়েছিলেন। তাঁদের নাম জানা যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকাল থেকে শত শত নারী-পুরুষ করোনার টিকা নিতে উপজেলার মঙ্গলকান্দি হাসপাতালের মাঠে জড়ো হয়ে সার বেঁধে দাঁড়ান। সকাল ৯টার আগে টিকা দেওয়া শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে বিক্রম ও বিনয় টিকাকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি টিকার বুথে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তখন শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা টিকার কার্ডটি স্ক্যান করার পর টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে তাঁদের লাইনে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্রম ও বিনয় গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে হামলা–ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়েন। তাঁরা চেয়ার দিয়ে হাসপাতালের একটি দরজা, কয়েকটি জানালা ও একটি স্টিলের আলমারি ভাঙচুর করেন।

এই পরিস্থিতিতে টিকা নিতে আসা লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় তাঁদের বাধা দিতে গিয়ে দুই গ্রাম পুলিশ ও একজন স্বেচ্ছাসেবকসহ পাঁচজন আহত হন। তাঁরা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরপর কিছু সময় টিকাদান বন্ধ ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর আবার টিকাদান শুরু হয়।

মঙ্গলকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, টিকা নিতে আসা বিক্রম ও বিনয়কে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বলায় চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে তাঁর পরিষদের দুই গ্রাম পুলিশ ও এক স্বেচ্ছাসেবকসহ পাঁচজনকে আহত করেছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ প্রথম আলোকে বলেন, দৈনিক এক হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এরপরও টিকা নিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ হাসপাতালে এসে ভিড় জমায়। গতকাল লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে বলায় গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পিটিয়ে আহত করেছে বিক্রম ও বিনয় নামের দুজন। ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালেরও ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন