default-image

নরসিংদীর পলাশে সেলিনা আক্তার (৪০) নামের এক টিকাদানকর্মীর গলা থেকে সোনার চেইন চুরি করতে গিয়ে সাত নারী চোর ধরা পড়েছেন। তাঁরা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে তাঁদের আটক করেন। খবর পেয়ে পলাশ থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পলাশ উপজেলার পণ্ডিতপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার একজন স্বাস্থ্য সহকারী। এই ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে ওই সাত নারীকে আসামি করে পলাশ থানায় মামলা করেছেন। মামলা হওয়ার পর আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই সাতজনকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার নারীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের জালাল মিয়ার স্ত্রী পারুল বেগম (৪০), মোবারক হোসেনের স্ত্রী আউলিয়া বেগম (২৬), ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা বেগম (২৬), শিশু মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম (২৮), হবিগঞ্জের মাধবপুরের সেলিম মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম (৪০), জমির উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম (৩০) এবং পটুয়াখালী সদরের ফোরকান সিকদারের স্ত্রী গোলাপী বেগম (৩০)। একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য হয়ে তাঁরা পলাশ উপজেলায় অবস্থান করছিলেন।

ওই সাত নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ হয়ে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারসহ জনসমাগম বেশি, এমন এলাকায় নারীদের টার্গেট করে তাদের মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করতেন।
বিজ্ঞাপন

সেলিনা আক্তার বলেন, তিনি আজ বেলা সাড়ে ১১টার সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে হেঁটে কর্মস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে যাচ্ছিলেন। পণ্ডিতপাড়া বাজার এলাকায় পৌঁছার পর এক নারী তাঁর গলা থেকে সোনার চেইন টান মেরে নিয়ে যান। এরপরই ওই নারী দৌড়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠে পড়েন। ওই অটোরিকশায় আরও ছয়জন নারী অবস্থান করছিলেন। এ সময় সেলিনার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করার জন্য ওই অটোরিকশাটির পেছনে পেছনে দৌড় দেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছার পর অটোরিকশাটি ধরে ফেলেন তাঁরা। পরে তাঁদের সাতজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সেলিনা ওই সাতজন নারীকে আসামি করে পলাশ থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ বলছে, ওই সাত নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ হয়ে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারসহ জনসমাগম বেশি, এমন এলাকায় নারীদের টার্গেট করে তাদের মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করতেন। এই উদ্দেশ্যেই সংঘবদ্ধ ওই চোর চক্রটির সাত নারী সদস্য পলাশে অবস্থান করছিলেন। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে এভাবে চুরি করে থাকেন।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, মামলা হওয়ার পর আজ বিকেলে গ্রেপ্তার সাত নারী চোরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার নারীদের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন