অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, রোববার বেলা একটার দিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন্দ্রে টিকা নিতে যান ইমন ও মাজেদ। তাঁরা লাইনে থাকা অবস্থায় বেলা একটায় টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় অপেক্ষারত টিকাপ্রত্যাশীদের অনেকে লাইন শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানান। টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা এতে রাজি না হলে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, একপর্যায়ে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী মিলে ইমন ও মাজেদকে মারধর করেন। পরে তাঁদের সাভার মডেল থানায় নিয়ে যান তাঁরা। সেখান থেকে ইমন ও মাজেদ অসুস্থ অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, এ খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যা সোয়া সাতটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখী সড়কটি অবরোধ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শতাধিক আবাসিক ছাত্র। এ সময় মহাসড়কের দুই কিলোমিটারের বেশি এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে রাত আটটার পরে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে যান। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সায়েমুল হুদার সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ওই দুই শিক্ষার্থী জোর করে টিকা নিতে গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের থানায় নিয়ে যান। আমি বিষয়টি নিয়ে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছি। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

এ বিষয়ে কথা বলতে সাভার থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।