default-image

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে মা-ছেলে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোরে মো. ফারুক নামে এক সবজি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব- ৭। কর্মকর্তারা জানান, ওই নারীকে হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় শিশুটিকে হত্যা করেন ফারুক। এরপর নিজের রক্তমাখা জামা-কাপড় নালায় ফেলে দেন। মুঠোফোন বন্ধ করে এলাকা ছাড়েন। এ বিষয়গুলো তিনি টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রল দেখে শিখেছেন বলেও র‍্যাবকে জানান।
গত  ২৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে চান্দগাঁও থানার রমজান আলী সেরেস্তাদারের সেমিপাকা বাড়ি থেকে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত দুজন হলেন গুলনাহার বেগম (৩৩) ও তাঁর শিশুপুত্র মো. রিফাত (৯)। গুলনাহারের শরীরে ১৮টি আঘাতের চিহ্ন ছিল। আর শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। গুলনাহার বাসা-বাড়িতে কাজ করতেন। তাঁর বাড়িতে ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে থাকতেন ফারুক, গুলনাহারকে বোন ডাকতেন তিনি। ফারুক নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় তরকারির ব্যবসা করেন।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে নগরের আকবর শাহ থানার পাক্কা রাস্তার মাথা এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্পে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, গুলনাহারের সঙ্গে ফারুকের প্রায়ই কথা-কাটাকাটি, বাসা ভাড়া নিয়ে বাগবিতন্ডতা হতো। সবকিছু মিলিয়ে ফারুক গুলনাহারকে ক্ষোভ থেকে খুন করে। আর খুনের দৃশ্য দেখে ফেলে গুলনাহারের নয় বছরের শিশু। এই কারণে তাকেও খুন করা হয়। ঘটনার পর ফারুক খাগড়াছড়ি, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব অধিনায়ক আরও জানান, ফারুক টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রল দেখে খুনের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী খুনের দৃশ্য দেখে ফেলায় শিশুকে খুন করেন। ঘটনার পর নিজের রক্তমাখা জামা কাপড় নগরের চকবাজার এলাকার নালায় ফেলে দেন। নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে দেন। খাগড়াছড়ি, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন। এক জায়গায় বেশি দিন কাজ করেননি। মাজারে মাজারেও ঘুরেছেন নিজেকে সন্দেহমুক্ত রাখতে। ধরা না পড়তে নানা ফন্দি-ফিকির করেছিলেন তিনি।

ফারুক টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রল দেখে খুনের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী খুনের দৃশ্য দেখে ফেলায় শিশুকে খুন করেন।
র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান


মামলার বাদী ও নিহতের মেয়ে ময়ূরী বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অন্য কাউকে সন্দেহ করতেন না। কারণ, তাঁদের বাসায় আর কেউ আসতেন না। এ ছাড়া তাঁর মা মানুষের বাসায় কাজ করতেন। অন্য কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। ঘটনার কিছুদিন আগে ফারুকের সঙ্গে তাঁর মায়ের তর্কাতর্কি হয়। আট মাস আগে তাঁরা এই বাসায় আসেন। ফারুককে বাসায় আসতে মানা করলেও তিনি শুনতেন না। তিনি তাঁদের বাসায় পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। তাঁর মাকে বোন ডাকতেন। ফারুকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ময়ূরী।

মন্তব্য পড়ুন 0