default-image

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নে টিলা কেটে রাস্তা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে টিলা কেটে রাস্তা প্রশস্ত করার ঘটনার তদন্ত করতে বলা হয়।

গতকাল রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে রিট আবেদন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন। আজ সোমবার সংগঠনটির সভাপতি ও আইনজীবী মনজিল মোরশেদ মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ তিন ব্যক্তিকে ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ নিয়ে গত ৫ জানুয়ারি প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘টিলা কেটে রাস্তা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, জয়চণ্ডী ইউনিয়নে রাস্তা প্রশস্ত করতে খননযন্ত্র দিয়ে মলাঙ্গি নামের একটি টিলা কেটে ফেলা হয়। এতে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘিত হয়। জনস্বার্থে সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনজীবী ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও এখলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া গত ৩১ জানুয়ারি রিট আবেদন করেন।

রিটে পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) মোট ১৩ জনকে বিবাদী করা হয়। গতকাল বিকেলে হাইকোর্টের বিচারপতি ফরাহ মাহবুব ও এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চে এর শুনানি হয়।

বিজ্ঞাপন

শুনানি শেষে আদালত সারা দেশের টিলা রক্ষায় কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারিসহ সাত দিনের মধ্যে মলাঙ্গি টিলা কাটায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৩২ টাকা ব্যয়ে জয়চণ্ডী রঙ্গীরকুল থেকে পাঁচপীর জালাই এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার করা হয়। এ কাজের প্রকল্প কমিটির সভাপতি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ। বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের। ওই রাস্তার দুই পাশে মলাঙ্গি টিলা পড়েছে। খননযন্ত্র দিয়ে সেখানে টিলা কেটে রাস্তা প্রশস্ত করা হয়।

যথাযথ অনুমতি ছাড়া টিলা কাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনু মিয়া ও খননযন্ত্রের মালিক এলাইচ মিয়ার নামে নোটিশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকের কার্যালয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে তিনজনকে জরিমানা করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন