default-image

রংপুরে মধ্যম আয়ের মানুষজনও লাইনে দাঁড়িয়ে ন্যায্যমূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপণ্য কিনতে ভিড় করছেন। অধিকাংশ স্থানে দুপুরের মধ্যে পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পণ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও ভিড়ের কারণে তা মানা হচ্ছে না।

রংপুর মহানগরের বিভিন্ন স্থানে টিসিবির নিত্যপণ্য কেনার জন্য মানুষ ঠ্যাসাঠেসি করে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে চিনি, ডাল, তেল, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ ও সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। খোলাবাজারে ট্রাকে করে বিক্রি করা এসব খাদ্যপণ্য স্বল্প মূল্যে পেতে ভিড় করছেন শত শত নারী-পুরুষ। প্রতিটি স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষের তুলনায় মধ্যম আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে।

রংপুর শহরের কয়েকজন ক্রেতা বলেন, করোনার এ দুর্যোগ মোকাবিলায় আর্থিক দৈন্য নিয়ে কঠিন পরিস্থিতি পার করছেন মানুষ। পবিত্র রমজান আসন্ন হওয়ায় ন্যায্যমূল্যের খাদ্যপণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। এ কারণে রমজান শুরুর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করতে সামর্থ্য অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে সবাই নিত্যপণ্য কেনার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

আসন্ন রমজান উপলক্ষে গতকাল থেকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে এর আগে থেকেও ছোলা ছাড়া সব পণ্য বিক্রি করা হতো। রংপুর নগরের সিটি বাজার, কাছারিবাজার, প্রেসক্লাব মোড়, সিটি পার্ক মার্কেট, নিউ সেনপাড়ার শিশুমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামারপাড়াসহ ২০টি স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

গতকাল দুপুরের দিকে নগরের কাছারিবাজার ও শাপলা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, পণ্য বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে। শহরের কাছারিবাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে আসা সরকারি কর্মচারী মোকাররম হোসেন বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) দুপুরের পর এসে দেখি পণ্য শেষ। তাই আজ দুপুর ১২টার মধ্যে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

শাপলা চত্বর এলাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী ট্রাকে আরও বেশি পণ্য দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বাজার থেকে টিসিবির পণ্যের দাম কম হওয়ায় এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

পবিত্র রমজান উপলক্ষে রংপুর নগরের ২০টিসহ জেলার ৪০টি স্থানে একটি করে ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। রমজান শুরু হওয়ার আগে সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডেই পণ্য বিক্রি কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
প্রতাপ চন্দ্র, কর্মকর্তা, টিসিবি রংপুর কার্যালয়

টিসিবি থেকে প্রতি কেজি মসুর ডাল ৫৫ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা, ছোলা ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ (তুরস্ক) কেজি ২০ টাকা, খেজুর ৮০ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা বেশি হওয়ায় দুপুরের পর পণ্য ফুরিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল সিটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি চিনি খুচরা ৭০ টাকা, মসুর ডাল প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১১০ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবি রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরের ২০টিসহ জেলার ৪০টি স্থানে ট্রাকে ডিলারদের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন একজন ডিলার ৩০০ কেজি মসুর ডাল, ৪০০ কেজি খেজুর, ৪০০ কেজি চিনি, ২০০ কেজি ছোলা, ৬০০ লিটার সয়াবিন তেল ও ২০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

এ ব্যাপারে টিসিবি রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে রংপুর নগরের ২০টিসহ জেলার ৪০টি স্থানে একটি করে ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রমজান শুরু হওয়ার আগে সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডেই পণ্য বিক্রি কার্যক্রম বাড়ানো হবে। ন্যায্যমূল্যের এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন