default-image

টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নরসিংদীর চরাঞ্চল নজরপুরে তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নজরপুরের আলীপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ হামলায় গ্রামটির অন্তত ২০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নজরপুরের আলীপুরা গ্রামে গলায় টেঁটাবিদ্ধ হন জুবায়ের আহমেদ ওরফে শান্ত (২০)। ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল বিকেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত জুবায়ের আহমেদ নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর গ্রামের সাত্তার মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার আলীপুরা গ্রামের এক মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলেন জুবায়ের আহমেদ। সেখানে লটারিকে কেন্দ্র করে জুবায়েরের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে আলীপুরা ও নজরপুর গ্রামের দুটি আলাদা পক্ষ তৈরি হয়ে যায়। পরে দুই পক্ষ টেঁটা, দা ও বল্লম নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গলায় টেঁটাবিদ্ধ হন জুবায়ের। পরদিন বিকেলে তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নজরপুর গ্রামের শতাধিক লোক আলীপুরা গ্রামে হামলা চালান। এ সময় অন্তত ২০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, নগদ টাকা ও মাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরে আলীপুরা গ্রামের লোকজন একত্র হয়ে নজরপুর গ্রামের হামলাকারীদের ধাওয়া দেন। রাত আটটা পর্যন্ত এ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। খবর পেয়ে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।

বিজ্ঞাপন

বাড়িঘরে হামলার শিকার বিউটি বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘নজরপুরের শতাধিক লোক দা, চাপাতি, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমার ঘরের আলমারিতে থাকা কিছু নগদ টাকা ও গোয়ালের একটি গরু নিয়ে গেছে তারা। এ ছাড়া আশপাশের বাড়িঘর থেকে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়েছে। আমি তো কোনো অন্যায় করিনি, তবে আমার বাড়িতে কেন হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হলো। আমি এর বিচার চাই।’

নজরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাদল সরকার বলেন, ডিমের লটারি ধরা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়েছিলেন জুবায়ের আহমেদ। এক দিন পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর জের ধরেই নজরপুর গ্রামের লোকজন আলীপুরা গ্রামে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুট করা কথা শোনা গেছে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে জানান নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নরসিংদীর নজরপুরে আনা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন