একসঙ্গে এতগুলো বড় মাছ পেয়ে আনন্দিত ট্রলারের চালক মোহাম্মদ আলী মাঝি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচজন জেলে জাল তুলতে গিয়ে দেখেন, অনেক ভারী। পরে ট্রলারে থাকা নয়জন জেলের সবাই মিলে জাল টেনে তোলেন। এরপর হিসাব করে দেখা যায়, ১২০টি লাল কোরাল এবং আরও ২৫-৩০ কেজি অন্য প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। প্রতিটি লাল কোরাল মাছের ওজন সাড়ে চার থেকে ছয় কেজি, একত্রে ওজন প্রায় ১৫ মণ। অন্য প্রজাতির মাছগুলো ট্রলারের মালিক ও জেলেরা ভাগ করে নিলেও লাল কোরালগুলো বিক্রি করা হয়।

ট্রলার মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, লাল কোরালগুলো স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লালু তিন লাখ টাকায় কিনেছেন। তবে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়ে থাকে ৫০০-৬০০ টাকায়। এখন মাছগুলো বরফ দিয়ে প্যাকেট করে উপযুক্ত দাম পাওয়ার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে।

লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ বলে জানিয়েছেন শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আয়ুব। তিনি বলেন, অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভালোই মাছ ধরা পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সুস্বাদু কোরাল মাছের কদর দেশব্যাপী। কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। এ জন্য এই মাছের দাম কিছুটা বেশি। এ মাছ সাধারণত ১ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হতে থাকে। দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, এই মাছ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল, বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। এ ছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এগুলো পাওয়া যায়।

মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, কোরাল ও ভেটকি—দুই নামেই এ মাছ পরিচিত। তবে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় স্থানীয় লোকজন এই মাছকে রাঙা ছইক্কা বা রাঙাচয় নামে চেনে। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Lates calcarifer। এ মাছে আমিষ; ওমেগা-৩; ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড; ভিটামিন এ, বি এবং ডি; খনিজ পদার্থ; ক্যালসিয়াম; জিংক; লৌহ; পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলেনিয়াম থাকে। এগুলো মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায় এবং রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শরীর গঠন ও বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে লাল কোরাল। এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস এগুলোর মূল প্রজননকাল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন