default-image

টেকনাফ পৌরসভায় একটি মার্কেটের সামনে বন্ধ দোকানের বারান্দায় এক ব্যক্তির লাশ দুই ঘণ্টা ধরে পড়ে ছিল। করোনভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে কেউ লাশের ধারেকাছে যাননি। দুই ঘণ্টা পর লাশটি দাফনের ব্যবস্থা করে মারোত নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তি মানসিক রোগী ছিলেন। তবে কেউ তাঁর নাম জানাতে পারেননি। বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর।

মারোতের সভাপতি আবু সুফিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সংগঠন ২০১৭ সাল থেকে মানসিক রোগীদের জন্য কাজ করছে। আজ বেলা একটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঢাকা হোটেলের সামনে একটি মার্কেটের বন্ধ থাকা দোকানের বারান্দায় একজন মানসিক রোগীর লাশ পড়ে থাকার খবর পান। ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁকে প্রতিদিন মারোতের পক্ষ থেকে খাবারও দেওয়া হতো। পরে বিকেল তিনটার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি কোভিড–১৯ আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন, এই ভয়ে কেউ লাশের পাশে যাননি। মারোতের সদস্যরা পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন।

আবু সুফিয়ান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পৌরসভার ঈদগাহ কবরস্থানে ওই ব্যক্তিকে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত ১৫ মে আরেকজন মানসিক রোগীকে মারোতের সদস্যরা দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এ ছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রতিদিন উপজেলার ১০১ জন মানসিক রোগীকে খাবার তুলে দিয়ে যাচ্ছে মারোত।

টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ওই ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৫ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে টেকনাফের দোকানপাট বন্ধ থাকে। তখন থেকে উপজেলার মানসিক রোগীদের খাবার দিয়েছে মারোত। ওই ব্যক্তির দাফনের ব্যবস্থাও করেছে মারোত।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন