default-image

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির থেকে দুই দিনে (রোববার ও আজ সোমবার) আরও ১৬৩টি পরিবারের ৭০১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে ৬ দফায় ৭৪৩ পরিবারের ৩ হাজার ৩৯৯ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থীশিবিরে স্থানান্তর করা হলো।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও বাহারছড়ার শামলাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ (জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব) পুলক কান্তি চক্রবর্তী আজ সোমবার বিকেলে প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলক কান্তি চক্রবর্তী বলেন, গতকাল রোববার ও আজ সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৩টি বাস ও ২৬টি ট্রাকে (মালামাল পরিবহনের জন্য) করে রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ শিবিরে বসবাসরত সব রোহিঙ্গা নাগরিককে উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ শিবিরে ১২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছিল। এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে প্রথম দফায় গত ১৩ জানুয়ারি ১৫৬ পরিবারের ৭২৭ জন, দ্বিতীয় দফায় ১৪ জানুয়ারি ১৪১টি পরিবারের ৬৬৭ জন, তৃতীয় দফায় ৩ ফেব্রুয়ারি ১৫০টি পরিবারের ৬৬৬ জন, চতুর্থ দফায় ৪ ফেব্রুয়ারি ১৩৩টি পরিবারের ৬৩৮ জনকে স্থানান্তর করা হয়। পঞ্চম দফায় গতকাল রোববার ৮৫টি পরিবারের ৩৬০ জনকে ও ষষ্ঠ দফায় আজ সোমবার ৭৮ পরিবারের ৩৪১ জন রোহিঙ্গাকে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থীশিবিরে নেওয়া হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের (আরআরআরসি) মাধ্যমে এ স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু করা হলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহযোগিতা করছে।

বাহারছড়া ইউপির চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন বলেন, টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরটির অবস্থান মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায়। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং পর্যটন এলাকা হিসেবে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ শিবিরটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাহারছড়ার শামলাপুর ক্যাম্পটি খালি করে রোহিঙ্গাদের উখিয়াসহ অন্য ক্যাম্পে নেওয়া হচ্ছে।

শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের দলনেতা (মাঝি) আবুল কালাম বলেন, এ শিবির থেকে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে পর্যায়ক্রমে সব রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে। এখানে ১২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছিল। রোহিঙ্গাদের শিবিরের মধ্যে রাখতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ছয় দিনে সাড়ে তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গাকে এখান থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন