default-image

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির থেকে চতুর্থ দফায় আজ বৃহস্পতিবার আরও ৬৩৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে উখিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এর আগে প্রথম দফায় ১৩ জানুয়ারি ১৪৪টি পরিবারের ৬৭০ জন, দ্বিতীয় দফায় ১৪ জানুয়ারি ১৪১টি পরিবারের ৬৬৭ জন এবং তৃতীয় দফায় ৩ ফেব্রুয়ারি ১৫০টি পরিবারের ৬৬৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে টেকনাফের এ শিবির থেকে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থীশিবিরে নেওয়া হয়। আজ চতুর্থ দফায় ১৩৩টি পরিবারের ৬৩৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থীশিবিরে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৫৬৮টি পরিবারের ২ হাজার ৬৩৭ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে টেকনাফ থেকে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থীশিবিরে স্থানান্তর করা হলো।

আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থ দফায় ১৩৩টি পরিবারের ৬৩৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শরণার্থীশিবিরে নেওয়া হয়েছে।

আজ বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের (আরআরআরসি) কর্মকর্তা, বাহারছড়ার শামলাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) সিনিয়র সহকারী সচিব পুলক কান্তি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আজ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৬টি ট্রাকে রোহিঙ্গাদের মালামাল ও ১১টি বাসে রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ শিবিরে বসবাসরত সব রোহিঙ্গাকে উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরে স্থানান্তর করা হবে। এ শিবিরে ১২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছিল। স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বাহারছড়া ইউপির চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন বলেন, টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরটির অবস্থান মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায়। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং পর্যটন এলাকা হিসেবে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শিবিরটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই বাহারছড়ার শামলাপুর ক্যাম্পটি খালি করে রোহিঙ্গাদের উখিয়াসহ অন্য ক্যাম্পে নেওয়া হচ্ছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনায় শামলাপুরের এ শিবির খালি করে রোহিঙ্গাদের উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরে নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩ দফায় মোট ৪৩৫টি পরিবারের ২ হাজার ৩ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাহারছড়ার শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের বিভিন্ন ব্লক থেকে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে যেতে ইচ্ছুক এমন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে এ স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

আজ স্বেচ্ছায় স্থানান্তর হওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক বশির আহমদ, জমিলা খাতুন, দিলদার বেগম ও অছিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ২০১২ সালের জুলাই মাসে আকিয়াব থেকে তাঁরা নৌকায় করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর বাহারছড়ার শামলাপুর ঝাউবাগানের ভেতরে ৬ হাজারের বেশি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ঝাউবাগান থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করে মনখালী সেতুসংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করে। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ও উগ্রপন্থী মগদের অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে প্রাণ রক্ষার্থে নিজ জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে আরও ৬ হাজারের মতো রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় এ শিবিরে।

এ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলেন, বাংলাদেশ সরকার উদার মানবতা দেখিয়ে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। উন্নত বসবাসের জন্য সিআইসির মাধ্যমে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে চলে যাচ্ছেন তাঁরা।

শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের দলনেতা (মাঝি) আবুল কালাম বলেন, এ শিবির থেকে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে পর্যায়ক্রমে সব রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে। এ শিবিরের রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে বাহারছড়া পাহাড়ের পাদদেশে পালিয়ে থাকছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নৌকায় শ্রমিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। এতে করে এলাকায় অপরাধ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই রোহিঙ্গাদের শিবিরের মধ্যে রাখতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন