ট্রলারসহ ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিল মিয়ানমার

বিজ্ঞাপন
default-image

ইঞ্জিন বিকল হয়ে মিয়ানমারের সমুদ্রসীমায় ঢুকে পড়া ট্রলারসহ ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। শুক্রবার রাত নয়টায় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কনস্যুলেটরের মাধ্যমে জেলেদের বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তথ্যটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ সিজিএস তাজউদ্দীনের কমান্ডার (বিএন) এস এম মিজবাহ উদ্দিন।

জেলেদের হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারে কর্মরত বাংলাদেশের কনস্যুলেটর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশি জেলেদের উদ্ধারের খবর পেয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়েছে। মিয়ানমারের অভিবাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে জেলেদের কনস্যুলেটর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন ভোলার কলাকুপার মো. আল আমিন, চার খলিফার মো. জহিরুল ইসলাম, উত্তর মাদ্রাজের মোহাম্মদ জসিম, মো. নুরুল ইসলাম, পশ্চিম এওয়াজপুরের মো. কামাল, নুরবাদের আবুল কালাম, নীলকমলের বেলাল হোসেন, মোতাহার মিয়া, সোনাপুরের জাকির হোসেন, খন্দকার বাড়ির আবুল কালাম, মোহাম্মদ নেছার, চর নুরুল আমিনের মাঝি মোহাম্মদ ফারুক, মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জের চাষি বালিগুয়ানের আবু সাইয়েদ, ঝালকাঠির সুক্তাঘরের মো. নুরুজ্জামান, চট্টগ্রামের লাউরখীলের মো. জসিম ও মো. শাহ আলম।

কমান্ডার মিজবাহ উদ্দিন বলেন, এফবি গোলতাজ-৪ (এফ-৬০৭৯) নামে বাংলাদেশি একটি ফিশিং ট্রলার গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের চাক্তাই খাল থেকে গভীর বঙ্গোপসাগরে যায়। শনিবার রাতে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে ট্রলারটি মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়লে দেশটির নৌবাহিনীর জাহাজ জেলেদের উদ্ধার করে। খবর পেয়ে মিয়ানমারের সিট্যুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেটর বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে বিষয়টি জানান। পরে মিয়ানমার নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ তাজউদ্দীন বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক জলসীমার শূন্যরেখার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে ১৭ জেলেসহ বাংলাদেশি ট্রলারটিকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ জলসীমার অভ্যন্তরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে নিয়ে আসা হয়। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে এই প্রথম সাগরের মাঝখানে আটকে পড়া বাংলাদেশি জেলেদের ফেরত আনা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ট্রলারের চালক মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর ট্রলারটি ভাসমান অবস্থায় ছিল। সবাই আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কনস্যুলেটর ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় ফিরে আসতে পেরেছি।’

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার ১৭ জেলে ও ট্রলারটি সেন্ট মার্টিন পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে। এরপর তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে ট্রলার মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন