বনপাড়া বাইপাস থেকে যাত্রীবোঝাই ট্রাক ও বাসগুলো রাজশাহী ও পাবনা-কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছে। অথচ এসব নিয়ন্ত্রণে বনপাড়া বাইপাসে পুলিশের তেমন উপস্থিতি চোখে পড়েনি। বাইপাসের দক্ষিণ পাশে এসব যানবাহন যখন থামছে, তখন পরিবহনশ্রমিকের পরিচয়ে কিছু যুবক যানবাহনের চালকের কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করছে। চালকেরা চাঁদা আদায়ের কারণ জানতে চাইলে বলা হচ্ছে, ‘এখানে থামলে টাকা দিতে হবে।’

যাত্রীভর্তি একটি ট্রাক সোমবার সকাল নয়টায় বনপাড়া বাইপাসের উত্তর পাশের একটি খাবার হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ায়। কথা হয় ট্রাকের আরোহী মহির উদ্দিনের (৩২) সঙ্গে। তিনি গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে উঠেছেন রাজশাহীর পুঠিয়া যাওয়ার জন্য। প্রচণ্ড রোদে ট্রাকে দাঁড়িয়ে বাড়ি আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া না দেওয়ায় বাসের টিকিট পাইনি। তাই সস্তায় যাওয়ার জন্য ট্রাকে উঠছি। কপালে যা আছে, তা-ই হবি।’

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারামুখী ট্রাকের আরোহী গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে তিনি ২০০ টাকা ভাড়ায় উঠেছেন। রোদে কষ্ট পেলেও বাতাস থাকায় সমস্যা হচ্ছে না।

default-image

নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজশাহী যাচ্ছেন ট্রাকের চালক মজিবুর রহমান। তিনি জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জে মাল খালাস করে রাজশাহীতে ফিরছেন। পথে কিছু লোক তুলেছেন। যাত্রীদের চাপাচাপি ছিল এবং ঈদ উপলক্ষে নিজেদের কিছু বাড়তি আয়-রোজগারের কথা মাথায় রেখে লোক তুলেছেন। আসার পথে পুলিশের বাধা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘সব ম্যানেজ করেই চলতে হচ্ছে।’

রোববার সকাল সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘নিউ ভাই ভাই নাইছ’ নামের বাসটি বনপাড়া বাইপাসে এসে থামে। তখন বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল।

যাত্রীদের একজন মোসলেম উদ্দিন জানান, কম টাকায় যাওয়ার জন্য তিনি ছাদে উঠেছেন। বাসের সুপারভাইজার নিজের নাম না বলার শর্তে বলেন, ‘গাড়ি কম। মানুষকে তো বাড়িতে পৌঁছাতে হবে। তাই কিছু কম ভাড়ায় তাদের ছাদে নিয়েছি।’ পুলিশ বাধা দেয়নি, জানতে চাইলে বলেন, ‘তারাও তো মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করেই হয়তো তারা বাধা দিচ্ছে না।’

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কিছু শ্রমজীবী মানুষ ট্রাকে আসছে সত্য। মাঝপথে নামিয়ে দিলে তাদের ভোগান্তি বাড়বে। তাই মানবিক কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ বনপাড়া বাইপাসে তৎপর আছে। চাঁদা আদায়ের ঘটনা পুলিশের চোখে পড়েনি।
মশিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বনপাড়া হাইওয়ে থানা

সোমবার সকাল নয়টার দিকে বনপাড়া বাইপাসের দক্ষিণ কোণে কয়েকটি মাইক্রোবাস ঘিরে ৪-৫ জন যুবক জটলা বেঁধেছিলেন। কাছে যাইতেই তাঁরা সরে গেলেন। মাইক্রোবাসের চালক মিজানুর রহমান জানান, ওরা স্ট্যান্ড ভাড়ার নামে চাঁদা চাচ্ছে। এখানে গাড়ি দাঁড়ালেই তাদের ১০০-৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কিছু শ্রমজীবী মানুষ ট্রাকে আসছে সত্য। মাঝপথে নামিয়ে দিলে তাদের ভোগান্তি বাড়বে। তাই মানবিক কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ বনপাড়া বাইপাসে তৎপর আছে। চাঁদা আদায়ের ঘটনা পুলিশের চোখে পড়েনি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন