default-image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা রুটে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’ সার্ভিসে ব্যবসায়ীদের আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে। এই বিশেষ ট্রেনে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় আম গেছে ১ লাখ ১ হাজার ৬০৫ কেজি। ট্রেনটিতে রাজশাহী স্টেশন থেকে এক কেজি আম ঢাকার বিমানবন্দর, তেজগাঁও বা কমলাপুরে নিতে খরচ পড়ছে সর্বোচ্চ ১ টাকা ১৮ পয়সা। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এক কেজি আমের ভাড়া লাগছে ১ টাকা ৩১ পয়সা।

৫ জুন প্রথমবারের মতো বিশেষ এই ট্রেন চালু হয়। প্রথম দিন ট্রেনটি ঢাকায় আম নিয়ে যায় ১০ হাজার ২১৫ কেজি। সে দিন রাজশাহী স্টেশন থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র বিশেষ প্যাকেটে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ দপ্তরে উপহার হিসেবে আম পাঠান। এর পর থেকে আম পরিবহনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আম সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে গত ২০ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আম পরিবহনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেন চলবে। এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচু ও অন্যান্য মৌসুমি ফল বিপণন এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে গত ১৬ মে ভিডিও কনফারেন্সে চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। সে দিনই ট্রেনে আম পরিবহনের কথা ওঠে। এরপর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পশ্চিম রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ট্রেনে আম পরিবহনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকসী) ফুয়াদ হোসেন জানান, ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনটি চালুর দ্বিতীয় দিন ৫ হাজার ৫৮০ কেজি, তৃতীয় দিন ১২ হাজার ২৭২ কেজি, চতুর্থ দিন ১৩ হাজার ২৭২ কেজি, পঞ্চম দিন ১৮ হাজার ৬৮৮ কেজি, ষষ্ঠ দিন ২১ হাজার ৬২৮ কেজি ও সপ্তম দিন ১৯ হাজার ৯৫০ কেজি আম নিয়ে ঢাকায় যায়। এই ৭ দিনে ট্রেনটি শুধু আম নিয়ে যায় ১ লাখ ১ হাজার ৬০৫ কেজি। আমের পরিবহনের চাহিদা আরও বেড়ে যাবে বলে জানা গেছে রেলওয়ে সূত্রে।

পশ্চিম রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় যায় ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন-২’ নামে আর ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফেরে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন-১’ নামে। প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে রাজশাহীসহ কয়েকটি স্টেশন থেকে আমসহ সব ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, ফার্নিচারসহ রেল আইনে বহনযোগ্য যাবতীয় মালপত্র তোলা হয়। পরে টাঙ্গাইল থেকে শুরু হয়ে কয়েকটি স্টেশনে আমসহ মালপত্র নামিয়ে ঢাকায় পৌঁছায় রাত ১টায়। পরের দিন সেখান থেকে আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌঁছায় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। ট্রেনটিতে রাজশাহী স্টেশন থেকে এক কেজি আম ঢাকার বিমানবন্দর, তেজগাঁও বা কমলাপুরে নিতে খরচ পড়ছে সর্বোচ্চ ১ টাকা ১৮ পয়সা। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এক কেজি আমের ভাড়া লাগছে ১ টাকা ৩১ পয়সা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকসী) ফুয়াদ হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত তাঁরা ১ লাখ কেজির বেশি শুধু আমই পাঠিয়েছেন। ধীরে ধীরে কৃষক, ব্যবসায়ীরা ট্রেনে আম পরিবহনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাঁরা এ জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা দিচ্ছেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ প্রথম আলোকে বলেন, এখনো অনেকেই এই সুবিধার কথা হয়তো জানেন না। তবে সাত দিনের আম পরিবহনের পরিমাণ হিসাব করলে ব্যবসায়ীরা আম পাঠানোর ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এই সেবা সারা বছরই চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের কৃষক ভালো দাম পাবেন, আর ঢাকাবাসী স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য কিনতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0