ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাংশের হামলা ও হট্টগোলে আজ শুক্রবার ১৪ দলের বিক্ষোভ-সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেছে। ২০-দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের নামে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিলের পর এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে গতকাল বিকেলে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার আগের স্থানে এসে শেষ হয়। পরে কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা শুরু হয়। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ দবিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাদেক কুরাইশী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার শুরুতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বক্তব্য শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতিপক্ষ স্বেচ্ছাসেবক লীগের একদল নেতা-কর্মী হট্টগোল শুরু করেন। তার পরও কামরুজ্জামান বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের লোকজন সভাস্থলে ভাঙচুর শুরু করেন। দলীয় নেতারা দ্রুত সভা ছেড়ে কার্যালয়ের দোতলায় উঠে পড়লে বিক্ষুব্ধরা সেখানে চেয়ার ছুড়তে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাঠিপেটা করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
এ ঘটনায় সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাকিল চৌধুরী ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদসহ পাঁচজন সামান্য আহত হন। পরে পুলিশি পাহারায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা কার্যালয়ের দোতলা থেকে বেরিয়ে আসেন।
দবিরুল ইসলাম বলেন, ১৪ দলের সভায় মূল সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। এটা উপেক্ষা করে সভার ঘোষক স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ককে ডাকায় তাঁর প্রতিপক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ শিকদারের নেতৃত্বে দুটি পক্ষ রয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে অবহিত না করে ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা ডাকায় সভাস্থলে হামলা করে যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদের নেতৃত্বাধীন পক্ষ। এর পর থেকেই দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন