বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জেলেরা জাল দিয়ে সরকারপাড়া এলাকার একটি পুকুরে মাছ ধরছিলেন। তাঁরা রুই-কাতলা মাছ রেখে জালে ওঠা নাইলোটিকা মাছগুলো পুকুরের পানিতে ছেড়ে দিচ্ছিলেন। অনেক ছেলেমেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে মাছ ধরা দেখছিল। তাদের মধ্যে ছিল জুয়েল রানাও। সে পুকুরের পানিতে মরা তিনটি নাইলোটিকা মাছ ভাসতে দেখে সেগুলো হাতে তুলে নেয়। এ সময় জুয়েলকে নানা কথা শোনান পুকুরের পাহারাদার হাওয়া মুরমু (২৫) ও তাঁর সহযোগী রমজান আলী (৩০)। একপর্যায়ে রমজান আলী রশি এনে একটি গাছের সঙ্গে জুয়েলের দুই পা বেঁধে ফেলেন। পরে বাঁশের লাঠি দিয়ে জুয়েলকে বেদম মারধর করতে থাকেন। জুয়েলের চিৎকারে আশপাশের কয়েকজন ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের কাছ থেকে বাধা পেয়ে রমজান নিরস্ত হন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রমজান আলী বলেন, ‘জুয়েলকে গাছের সঙ্গে বেঁধে একটু তামাশা করেছি। বেশি মারিনি।’

জুয়েলের মা দিনমজুর মাজেদা বেগম বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পর ঘটনাটি জানতে পারেন। তিনি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন।

মাজেদা বেগম ও মনিরউদ্দীন প্রথমে ঘটনাটি গ্রামবাসীকে জানিয়ে বিচার দাবি করেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়। রাতে জুয়েলকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

দৌলতপুর ইউপির চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায় বলেন, ‘স্কুলছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করার কথা শুনেছি। এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে সুবিচার হবে আশা করি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শরিফ মো. ওসমান বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে জুয়েলকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাকে হাসপাতালের ৩ নম্বর শয্যায় ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন