বিধিনিষেধ আরোপের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন ও বাজার কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

কিন্তু আজ সরেজমিনে পৌর শহরের পাইকারি সবজিবাজারে দেখা গেল, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বালাই এখানে নেই। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার গাদাগাদি। শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছেন সবাই।

সে সময় কথা হয় মুন্সিহাট মহল্লার বাসিন্দা হাসান আলীর (৬৩) সঙ্গে। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন করোনার সংক্রমণ বেশি। এখন যেখানে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা উচিত, সেখানে বাজারগুলোয় এর কোনো বালাই নেই। এখানে মানুষের চলাফেরা দেখে মনে হচ্ছে, যেন একেবারে স্বাভাবিক একটা সময়। এতে করোনা সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা থেকে বেগুন নিয়ে বাজারে এসেছেন কাইমত হোসেন (৪৮)। তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ কেনাকাটা করে বলে আমি সব সময় এখানে সবজি নিয়ে আসি। আজও এসেছি।’

বাজারে করলা বিক্রি করছিলেন সদর উপজেলার নারগুন এলাকার সাদেকুল হক (৪১)। তিনি বলেন, সকাল থেকে সবজিবাজার শুরু হয়। এখানে পাইকারি দরে সবজি বিক্রি হয় বলে সব সময় ভিড় লেগেই থাকে।

শিবগঞ্জ এলাকা থেকে সবজি কিনতে এসেছেন জয়নাল আবেদীন (৫৬)। মুখে মাস্ক নেই কেন—এর উত্তর না দিয়ে তিনি সবজি বাছাই করতে লাগলেন। অনেক চাপাচাপির পর তিনি পকেট থেকে মাস্কটি বের করে এই প্রতিবেদককে দেখিয়ে বলতে লাগলেন, ‘এই দেখেন আপনার মাস্ক।’

সবজি কিনতে আসা ব্যবসায়ী আবুল হকের (৪৪) থুতনিতে ঝুলছিল মাস্ক। তিনি বললেন, ‘বাজারে প্রচণ্ড গরম। মাস্ক রাখা যাচ্ছে না। তাই নামিয়ে রাখছি।’

সবজি কিনতে আসা শহরের ধনঞ্জয় রায় (৫৯) বলেন, ‘ভাই, সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলছে। কেউ তো সামাজিক দূরত্ব মানছে না। বাজার কমিটিও ক্রেতা-বিক্রেতাকে কিছু বলছে না।’

হাটে কেনাকাটা করতে আসা কালীতলা এলাকার সবজি ব্যবসায়ী হোসেন আলী (৩৯) বলেন, হাটবাজারে মানুষের সঙ্গে মানুষের একটু ধাক্কাধাক্কি লাগেই। দূরে দাঁড়িয়ে কি ভালো সবজি কেনা যায়?

এদিকে এ পরিস্থিতিতে কাঁচাবাজার মাঠে বা খোলা জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এ বিষয়ে শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এখন বাজার। বাজারে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেনাবেচা চলায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ অবস্থায় গ্রামের বাজারগুলোয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাবেচা নিশ্চিত করা ছাড়া উপায় নেই।

আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা আওলাদ মিয়া বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কালীবাড়ি বাজারের মাছের দোকান তুলে সাধারণ পাঠাগার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু গোবিন্দনগরের সবজি বাজারে শত শত লোক জমায়েত হলেও সেটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে ওই পাইকারি সবজিবাজার থেকেই মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন মো. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়েও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে। জেলার করোনা পরিস্থিতি যেকোনো সময়ের তুলনায় খারাপ। জনসমাগম বন্ধ করা না গেলে করোনা সংক্রমণ মহামারি হয়ে দেখা দিতে পারে।

জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে লোকজনের সমাগম কমিয়ে আনতে শহরের কালীবাড়ি বাজারের মাছের দোকান সাধারণ পাঠাগার মাঠে সরিয়ে আনা হয়েছে। পাইকারি সবজি বাজারটিও উন্মুক্ত স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন