বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জুন মাসে সাধারণ সহায়তা (জিআর) প্রকল্পের মাধ্যমে সদর উপজেলার মসজিদের ওয়াজ মাহফিল, মন্দিরের নামযজ্ঞ ও মাদ্রাসার এতিমখানায় খাবারের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২১৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের ৩৪টি প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৪ মেট্রিক টন চাল। ঢোলারহাট ইউপির চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে জাল কাগজপত্র তৈরি করে বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ‘ভুয়া প্রকল্পে চাল আত্মসাৎ’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পরে ২০১৯ সালের মার্চে এ ঘটনার অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক। সে সময় সীমান্ত কুমার বর্মণ ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢোলারহাট এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দের চাল বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৮ টাকা ১০ পয়সা জমা দেন। একই বছরের ১৩ নভেম্বর ছয় টন সরকারি প্রকল্পের চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে সীমান্ত এবং উপজেলা খাদ্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহসানুল কবীর পলাশ।

মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের তৎকালীন বিশেষ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. হাছানুজ্জামান এই ছয়জনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। ৪৭ দিন কারাগারে আটক থাকার পর সীমান্ত উচ্চ আদালতে জামিন পান। মামলাটি এখনো চলমান।

সরকারি বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ মামলার আসামিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। ঢোলারহাট ইউনিয়নের ঝলঝলিপুকুর এলাকার মো. শাহ আলম বলেন, যে ব্যক্তি মসজিদ, মন্দির ও ধর্মীয় জলসা, নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের সরকারি বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করেন, তাঁকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া একেবারেই ঠিক হয়নি।

মাধবপুর এলাকার শিক্ষক রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে চেয়ারম্যান জেল খেটেছেন, তাঁকে কীভাবে আবার মনোনয়ন দেওয়া হলো, আমি বুঝতে পারছি না। তাঁর মনোনয়নের পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে।’

অভিযোগের বিষয়ে সীমান্ত কুমার বর্মণ বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পের চাল প্রকল্প সভাপতির নামে বরাদ্দ হয়। তাঁরাই চাল উত্তোলন করেন। সেসব বরাদ্দ উত্তোলনে আমার সম্পৃক্ততা দেখিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। আমি ওই চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। ইউনিয়নবাসীরা কোনোভাবে এটা বিশ্বাস করে না, তাঁরা আমাকেই আবার ভোট দেবেন।’

রুহিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, সীমান্তের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের একটি মামলা থাকলেও সেই মামলায় তিনি এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি। এ কারণে প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাঁর নাম পাঠানো হয়েছিল।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায় বলেন, কেন্দ্রে পাঠানো প্রতিটি নামের পাশে মন্তব্য লিখতে হয়। সীমান্তের নামে যে চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়েছিল।
চতুর্থ ধাপে আগামী ২৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাটসহ ২০টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন