ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঠছাড়া করতে অব্যাহত মামলা ও গ্রেপ্তার এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দুরে রাখতে  ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। আজ বুধবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে
ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঠছাড়া করতে অব্যাহত মামলা ও গ্রেপ্তার এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দুরে রাখতে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। আজ বুধবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়েপ্রথম আলো

ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঠছাড়া করতে মামলা ও গ্রেপ্তার চলছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটারদের দূরে রাখতে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা। আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এ সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী শরিফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, জেলা যুবদলের সভাপতি চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবুনুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ১০টির বেশি অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, চতুর্থ ধাপে ১৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। গত ২৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের প্রচারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রায় প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রতিনিয়ত ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ছেন। বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান, মারপিট, বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখতে প্রকাশ্যে হ্যান্ডমাইকে হুমকি প্রদান করে পৌরসভাজুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। এভাবে নির্বাচনের ফলাফল নৌকার পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ১০টির বেশি অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নৌকা প্রতীকের কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়েন এবং প্রচারণায় বাধা দেন। পরদিন নৌকা প্রতীকের প্রতিটি পথসভায় আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভোটকেন্দ্রে না যেতে ভোটারদের হুমকি দেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রমপাড়ায় বিএনপির প্রার্থীর গণসংযোগ চলাকালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ও উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণাংশ দত্তের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে রামদা হাতে হামলা চালান। যাঁরা ধানের শীষে ভোট দেবেন, তাঁদের এলাকাছাড়া করা হবে বলে তাঁরা হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে প্রচারণা চালান।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণাংশ দত্তের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে রামদা হাতে হামলা চালান। যাঁরা ধানের শীষে ভোট দেবেন, তাঁদের এলাকাছাড়া করা হবে বলে তাঁরা হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে প্রচারণা চালান।

মির্জা ফয়সল বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়ায় পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাবলুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য জয় চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মীরা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর এবং নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি প্রদান করেন, বাড়ির আসবাব ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া পৌর শহরের সব এলাকাতেই নৌকার কর্মীরা ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন, মাইক ভাঙচুর ও প্রচারে বাধা দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে কৌশলে এলাকাছাড়া করে নির্বাচনের ফলাফল তাঁদের পক্ষে নিতে চেষ্টা করবেন বলে আমাদের আশঙ্কা।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো নানা ঘটনা সাজিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে তিনটি মামলা করা হয়েছে। সেখানে কয়েক শ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীকের দুই পোলিং এজেন্ট মোহাম্মদ বিপ্লব, মো. সায়েমসহ আটজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। নির্বাচনে জেতার জন্য আওয়ামী লীগের ভয়ভীতি দেখানোর প্রয়োজন নেই।
অরুণাংশ দত্ত, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান

নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীকের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র হাতে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন করে রাস্তাঘাটে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিনিয়ত ধানের শীষের কর্মীদের ভয়ভীতি, হুমকি-ধমকি প্রদান করছেন। সবকিছু জানা সত্ত্বেও প্রশাসন নীরব ভূমিকায় মাধ্যমে নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব করে চলেছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন না। সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে নির্বাচনী বর্জন করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফয়সল বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আজকের (বুধবার) মধ্যে যদি অবস্থার উন্নতি না হয়, নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার চলতে থাকে, তখন সিদ্ধান্ত নিতেও পারি যে আমরা নির্বাচন বয়কট করব কি না। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠেই আছি।’

নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজনে কোনো প্রার্থীকে ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই।
মো. জিলহাজ উদ্দিন, রিটার্নিং ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা

এসব অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণাংশ দত্ত বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। নির্বাচনে জেতার জন্য আওয়ামী লীগের ভয়ভীতি দেখানোর প্রয়োজন নেই।

পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের নামে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। এর বাইরে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীকে হয়রানি করা হচ্ছে না।

রিটার্নিং ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিলহাজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আসছে। সেসব খতিয়ে দেখে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজনে কোনো প্রার্থীকে ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা প্রতীক) আঞ্জুমান আরা বেগম, বিএনপির (ধানের শীষ প্রতীক) শরিফুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা প্রতীক) প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন